অপরাধ


অন্তঃসত্ত্বা সতিনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপর সতিন র‍্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৪ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

অন্তঃসত্ত্বা সতিনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপর সতিন র‍্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তার
আরএম সেলিম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ১৪ বছর পর শেরপুরের নকলায় চাঞ্চল্যকর অন্তঃসত্ত্বা সতিনকে হত্যার দায়ে দ্বিতীয় সতিন উক্ত হত্যাকান্ডে সহায়তা করায় হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। ১৩ মার্চ (বুধবার) রাতে তাকে ময়মনসিংহের চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত 
 আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালী নকলা উপজেলার বাছুর আলগা গ্রামের মৃত নুরুল আমিম বৈঠার স্ত্রী।

র‍্যাব জানায়, আসামী মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় বিবাহ করায় তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। আন্জুমানারা বেগম (শেফালী) মৃত  নূরুল আমিন বৈঠার দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তার সাথে প্রথম স্ত্রীর প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। ধৃত আসামী তার স্বামীকে প্রথম স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্ররোচনা দিতো। এমতাবস্থায়, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা প্রথম স্ত্রীর সাথে বাকবিতন্ডা করতে থাকেন। একপর্যায়ে, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে স্বজোরে পেঠে লাথি মারায় ভিকটিম মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। 

পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৫এপ্রিল ভিকটিমের ভাই মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বাদীর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শেরপুর-২০১০ সালের ১৯এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন -২০০০ সালের ১১(ক)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। 
এ ঘটনার পরে থেকেই আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালী আত্মগোপনে চলে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায়, র‍্যাব-১৪, সিপিসি-১ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদীর নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে ১৩মার্চ বুধবার রাতে ময়মনসিংহের চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তারকৃত আসামী আন্জুমানারা বেগম (শেফালী)কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

র‍্যাব-১৪, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদী জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।