অপরাধ


চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে অস্ত্র গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ৪ ডাকাত আটক


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে অস্ত্র গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ৪ ডাকাত আটক
শাহেদ হোছাইন মুবিন,কক্সবাজার জেলা : কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী ডাকাত আকতার হোসাইনসহ ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।মঙ্গলবার (২এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে চকরিয়ার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়আটককৃত ডাকাত সদস্যরা হলেন মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার কবির আহমেদের ছেলে আকতার হোসাইন (৪২),কালামারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জির পাড়া এলাকার লস্কর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন(৪২),নুনাছড়ি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন (৩৮) ও কক্সবাজার সদর ভারুয়াখালী ইউনিয়নের উজির আলীর ছেলে নুরুল হামিদ(৩৯)।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন কক্সবাজার এর আভিযানিক দল র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, অস্ত্রধারী একদল ডাকাত চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ দখলের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে চকরিয়া থানাধীন পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া মকবুলাবাদ এলাকার একটি ঘরে অবস্থান ও ঘের দখলের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত তথ্যের প্রেক্ষিতে গত রাত আনুমানিক ৩টার সময় র‌্যাব-১৫ এর চৌকস আভিযানিক দল উক্ত এলাকায় ডাকাত দলের অস্ত্রধারী সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে টং ঘরে অবস্থানরত ডাকাত দলের সদস্যরা দিক-বিদিক পালানোর জন্য ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় ধাওয়া করে মহেশখালীর কেরুনতলীর অন্যতম দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আকতার হোছাইন’সহ ডাকাত দলের চার সদস্য’কে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় তল্লাশী করে আকতার হোছাইনের ডান কোমরে গুজানো অবস্থা থেকে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি, ঘরটি তল্লাশী করে ৪টি লম্বা একনালা বন্দুক, ৯৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩টি স্মার্ট ফোন এবং ডাকাত দলটির অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি আটককৃত নুরুল আমিনের হেফাজতে হতে উদ্ধার করা হয়।
আটক আকতার হোছাইন মহেশখালীসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ অবৈধভাবে দখলসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। সে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে ভাড়া করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে তার দলের শক্তি বৃদ্ধি করে। মহেশখালীসহ কক্সবাজারের চকরিয়া ও অন্যান্য এলাকা এবং কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান হতে ভাড়া করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, সশস্ত্র সন্ত্রাসী/ডাকাত দলের সদস্যদের সে মহেশখালীতে নিয়ে আসতো। এছাড়াও ঘের দখলে তাদের শক্তি ও জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠতি বয়সী কিশোর/যুবকদের দলে অন্তর্ভূক্তকরণসহ তাদের হাতে তুলে দিতো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তারা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে দেশীয় তৈরী অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ, চিংড়ি ঘের দখল ও ডাকাতির কাজে অস্ত্র-গোলাবারুদের ব্যবহার এবং নিজেদের হেফাজতে মজুদ করে থাকে। আরো জানা যায় যে, চিংড়ি ঘের ও লবণ চাষ লাভজনক হওয়ায় দখলবাজ কিছু স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ছত্র-ছায়ায় ঘের দখল-বেদখলে এ সকল সন্ত্রাসীদের তৈরীসহ শেল্টার দিয়ে থাকে। আকতারের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়। 
আটক জয়নাল আবেদিন প্রকাশ হাতকাটা জয়নাল, আকতার হোছাইনের অন্যতম সহযোগী। সে ছিল মহেশখালীর এক সময়ের কুখ্যাত ও ভয়ংকর ডাকাত। তৎকালীন সময়ে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, ডাকাতি ও মাছের ঘের দখল করতো। তার এই অপরাধ কর্মকান্ডের ফলে প্রতিপক্ষের সাথে সৃষ্ট সংঘর্ষে তার ডান হাত প্রতিপক্ষ কেটে ফেলে এবং সে থেকে হাতকাটা জয়নাল নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬টি মামলা সংক্রান্তে তথ্য পাওয়া যায়।
নুরুল হামিদ প্রকাশ খলিফাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বিভিন্ন মাধ্যম হতে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করতো। সংগ্রহকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের নিকট বিক্রয়সহ চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখলকারী অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের নিকট অস্ত্র সরবরাহ করতো। একই সাথে সে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার নিকট অস্ত্র বিক্রয় করে বলে জানা যায়। এছাড়াও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের নিকট এই দেশীয় তৈরী অস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত নুরুল আমিন পেশায় সিএনজি চালক হলেও এই পেশার আড়ালে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের আনা-নেয়ার কাজে সহায়তা করে থাকে। 

আটককৃত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।