অপরাধ
কোটি টাকার খাল,নেই খালে পানি
রবিবার (৭ এপ্রিল ) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খালটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে একদম পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। কাটাগাঙ্গে ব্যবহৃত নৌকাগুলোও পড়ে আছে। অথচ এ খালটি খনন করার পর কৃষকদের সেচযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমিতে পানি দেওয়ার কথা ছিল।
কাটাগাঙ্গের দুইপাড়ের কৃষকরা বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নামমাত্র পুনর্খনন দেখিয়ে এ প্রকল্পের ২০ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষকরা অভিযোগ করেন, খননের কাজ চলাকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রকৌশলী প্রকল্প এলাকা ঘুরেও দেখেননি। শিডিউল অনুযায়ী খালটির ১২-১৪ ফুট পর্যন্ত গভীর করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাঁচ-ছয় ফুটের মতো মাটি তুলে খালের দুইপাড়ে এলোমেলোভাবে ফেলে রেখেছিল।
অথচ এটি ভালোভাবে খনন করলে বোরো মৌসুমের পুরো সময় আমরা ধান ক্ষেতে উন্মুক্তভাবে পানি দিতে পারতেন তারা। সেইসঙ্গে কাটাগাঙ্গের নাব্যতা ফিরে আসলে গ্রীষ্মকালে মাছের প্রজনন সময়কালে খালটি অভয়াশ্রম হিসেবে কাজ করতে পারতো।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, পাউবো দেশের ৬৪ জেলায় ছোট নদী, জলাশয় ও খাল খননে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তাড়াশ উপজেলার ভেটুয়া থেকে পাবনার অষ্টমনিষা পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের জন্য ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়, যা ২০২০ সালের শেষের দিকে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলার মাগুড়াবিনোদ গ্রামের কৃষক সেলিম রেজা বলেন, যে উদ্দেশ্যে খালটি খনন করা হয়েছে তা এখন কোনো কাজেই আসছে না। সত্যি কথা বলতে কাটাগাঙ্গটি খননের নামে ঠিকাদার ও পাউবোর কর্মকর্তারা হরিলুট করেছেন।
কাটাবাড়ি গ্রামের কৃষক মেহেদি হাসান বলেন, এটি পুনর্খনন করার সময় পাউবোর ব্যাপক গাফলতি ছিল। খালটি খনন করা মাটি খালের পাড় বা তীরে আলগাভাবে রাখায় গত দুই বর্ষার মৌসুমে মাটিগুলো আবার খালের তলানিতেই গিয়ে জমেছে। যে কারণে খালটি পানি শূন্য হয়ে পড়েছে।
চলনবিল রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, খাল খননে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে এটি কোনো কাজে আসবে না। এ খননে কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পাউবোর কর্মকর্তারা লাভবান হয়েছেন। এ কাজ চলনবিলের জন্য কোনো সুফল আনেনি।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনেই খালটি খনন করা হয়েছিল। বছরে চার মাস পর্যন্ত ওই খালে পানি থাকে।
তবে খালটি কত ফুট গভীর করা হয়েছিল এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি এ কর্মকর্তা।
জনপ্রিয়
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল
ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি
হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

.jpg)







