অপরাধ


একাধিক বিয়ে, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আলোচনায়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার

একাধিক বিয়ে, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আলোচনায়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত তথ্য বেরিয়ে আসছে। একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক সম্পর্ক, মদ্যপান, ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে বারবার আলোচনায় আসছেন তিনি।

সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল কর্মকর্তা হাসানুর রশিদকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন সেলিনা বেগম।

 ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস কক্ষে স্বামী হাসানুর রশিদকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন সেলিনা বেগম। এ সময় জামা ছিঁড়ে গেলেও তিনি ছাড়েননি। ঘটনার পর থানায় মামলা করেন হাসানুর। তার অভিযোগ—ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে পড়ে তিনি বিয়েতে জড়ান, কিন্তু দাম্পত্য জীবন টেকেনি। 

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলেন সেলিনা। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল, কখনো বিয়ে, আবার কখনো সামাজিকভাবে অপদস্ত করা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একজন এএসপি, শিক্ষা ক্যাডারের দুই কর্মকর্তা, শিল্পকলা একাডেমীর এক কর্মকর্তা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মকর্তা তার ফাঁদে পড়েছেন।

একজন শিক্ষা ক্যাডার জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেডিকেল পরীক্ষার সময় সেলিনার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পর জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ছবি তুলে প্রতারণা করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

 লালমনিরহাট জেলা পুলিশ জানায়, কালচারাল অফিসার হাসানুর রশিদের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, সেলিনা বেগম তার স্বামীকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইল করেছেন। 

 অভিযোগ বিষয়ে জানতে সেলিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় শুনে কল কেটে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। 
 এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “আমি নতুন ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে মৌখিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি।” 

একাধিক বিয়ে, বেপরোয়া আচরণ, সরকারি কর্মকর্তাদের নির্যাতন, মদ্যপান ও ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।