অপরাধ


ভোলার চরফ্যাশনে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ২০


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার

ভোলার চরফ্যাশনে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ২০
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সংঘর্ষে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গণসংযোগ শেষে চকবাজারে জামায়াত কর্মী জামালের ওষুধের দোকানে বসে ছিলেন তারা। এ সময় বিএনপির তিন কর্মী এসে জামালকে গালিগালাজ করেন এবং গণসংযোগে যেতে নিষেধ করেন। এর কারণ জানতে চাইলে জামালকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, আহত জামালকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় চকবাজার এলাকায় আবারও অ্যাম্বুলেন্সসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।
হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে ভোলা–৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনি গণসংযোগে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, হামলার পর আহত কর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে প্রশাসনের সামনেই দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তবে সংঘর্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে চরফ্যাশন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল বলেন, জামায়াত গণসংযোগের সময় আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। তাদের হামলায় আমাদেরও অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নৌবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।

চরফ্যাশন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।