অপরাধ


নারীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক দুই নেতা গ্রেপ্তার


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার

নারীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ:  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক দুই নেতা গ্রেপ্তার

মাগুরার মহম্মদপুরে বাড়ি ফেরার পথে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলার পর রাতেই তাদের আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মহম্মদপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) ও সিজান মাহমুদ সানি (২১)। নাফিস মহম্মদপুর কারিগরি কলেজের এবং সানি মহম্মদপুর আমিনুর রহমান কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত উপজেলা কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন।

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ফরিদপুরের একটি পাটকল থেকে কাজ শেষে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ (৩৮)। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আরব ব্রিকস মোড়ে বাস থেকে নামার পর আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার তরুণ তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

 

ভুক্তভোগী নারী তার লিখিত অভিযোগে নাফিস আহমেদ স্বাধীন, সিজান মাহমুদ সানি, রুবেল ও সুমন নামে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার পর পরিবারের সহায়তায় তিনি থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

Related posts here

 

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে নাফিস ও সিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি নিয়মিত তদন্তাধীন রয়েছে এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন বলেন, অভিযুক্ত দুজন আগে সংগঠনের উপজেলা কমিটিতে ছিলেন। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরই ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে মহম্মদপুর উপজেলায় তাদের কোনো কার্যকর কমিটি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

 

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ আর না ঘটে।


সম্পর্কিত

ধর্ষণমাগুরা

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।