অপরাধ


তজুমদ্দিনে ৬০০ টাকা নিয়ে বিরোধে যুবক হত্যার প্রধান আসামি তামিম ঢাকায় গ্রেপ্তার


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার

তজুমদ্দিনে ৬০০ টাকা নিয়ে বিরোধে যুবক হত্যার প্রধান আসামি তামিম ঢাকায় গ্রেপ্তার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো. তামিম হোসেনকে (২০) ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮।

 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল রাজধানীর ভাটারা থানাধীন ১০০ ফিট সড়কের একটি প্লট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তামিমকে গ্রেপ্তার করে। তিনি তজুমদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ আড়ালিয়া গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে।

 

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে দক্ষিণ আড়ালিয়া গ্রামে ক্রিকেট খেলা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। নিহত মো. শাকিল মিস্ত্রির ছোট ভাই রাকিবের কাছে তামিমের ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন শাকিল। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি তামিমকে একটি চড় মারেন।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি কেরানির দোকানে টেলিভিশন দেখার সময় শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তামিম পেছন থেকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে শাকিলের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

 

পরবর্তীতে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জানুয়ারি ভোরে শাকিল মারা যান। নিহত শাকিল পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইউনুস বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই তামিম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

র‍্যাব সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তজুমদ্দিন থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।


সম্পর্কিত

যুবক হত্যাহত্যাকাণ্ডভোলা

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।