অপরাধ


শ্রমিক লীগ নেতার কোদালের কোপে ছাত্রদল নেতার মায়ের মৃত্যু


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার

শ্রমিক লীগ নেতার কোদালের কোপে ছাত্রদল নেতার মায়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বন বিভাগের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে শ্রমিক লীগ নেতার কোদালের আঘাতে রেহেনা বেগম (৪৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর যোদ্ধা ইয়াসীন আরাফাত ছোটনের মা। ইয়াসীন আরাফাত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বন বিভাগের পাহাড়ি জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে খুনিয়াপালং ১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি জহির আলম কালুর সঙ্গে রেহেনা বেগমের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জহির আলম কালু কোদাল দিয়ে রেহেনা বেগমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেন।

 

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

রামু থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ কালের কণ্ঠকে জানান, জহির আলম কালু স্থানীয়ভাবে একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে পরিচিত। নিহত নারীর সঙ্গে বন বিভাগের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কালুর যোগসাজশে বন বিভাগের কর্মীরা এর আগে রেহেনা বেগমের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন।

 

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জহির আলম কালু পালিয়ে যান। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

 

রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিহতের মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


সম্পর্কিত

অপরাধহত্যাশ্রমিক লীগ

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

সিঙ্গাপুর-দুবাইয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য, জহিরুল-মাঝহারুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং তার ভাই মাঝহারুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কিংবা আয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নথিতে নেই, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্য আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত স্মার্ট টেকনোলজিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘাতকের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানা গেল

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং রামপুরা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাসিলের নামে কোরবানির হাটে শত কোটি টাকার চাঁদাবাজি

হাটে ঢোকার আগে টাকা, গরু নামানোর জন্য টাকা, মাটি ভরাট করতে টাকা, আবার বের হতেও লাগবে টাকা। হাসিলের নামে কুরবানির হাটে একদিনেই উঠছে শত কোটি টাকার চাঁদা। এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে পুরো দেশের কোরবানির হাট গুলোতে। যেখানে হাটের ভেতর থেকে শুরু করে মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন অর্থ আদায়ের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে।