অর্থনীতি


জিএফআই প্রতিবেদন: ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার

জিএফআই প্রতিবেদন: ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য বা পরিমাণে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে যা ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ নামে পরিচিত এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে পুঁজি সরানোর উদ্দেশ্যে আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই কারসাজি করা হয়।

 

জিএফআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মূল্যের গরমিলের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

 

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে গরমিলের মাধ্যমে সরানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ফলে এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়েছে।

 

পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

 

গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং তা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যকর নীতি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সম্পর্কিত

অর্থনীতিবাণিজ্য চুক্তিটাকা পাচার

জনপ্রিয়


অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ২৯ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ২৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স লেনদেনে প্রতিদিনই ব্যবহৃত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।

লেনদেন সীমা কমায় আস্থার সংকটে ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

বেসরকারি খাতের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক–এ নতুন করে লেনদেন সীমা নির্ধারণের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেন সেবায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় অনেক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার- ২৬ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। এ প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।