পবিত্র রমজান মাসে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পূর্বের মতো পূর্ণ ছুটি বহাল রাখা এবং সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারকে বার্ষিক ছুটির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। নতুন করে ছুটির তালিকা বাস্তবসম্মতভাবে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর স্বাক্ষরিত আবেদনে শিক্ষকরা তাদের উদ্বেগ ও যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরেন।
আবেদনে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকায় রমজান মাসে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৫ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের মতে, রমজানে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ রোজার পাশাপাশি রাতে তারাবীহ নামাজ আদায়ের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় নিয়মিত পাঠদান শিক্ষার মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে পূর্বের ন্যায় পুরো রমজান মাস ছুটি বহাল রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
এছাড়া আবেদনে ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারকে বার্ষিক ছুটির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। শিক্ষকরা জানান, মোট ৮টি সাপ্তাহিক ছুটির দিন মার্চের ১৩, ১৪, ২০ ও ২১ তারিখ, মে মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ এবং ডিসেম্বরের ২৫ ও ২৬ তারিখ সাধারণ ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়েছে, যা অযৌক্তিক।
তাদের দাবি, সাপ্তাহিক ছুটিকে বার্ষিক ছুটির হিসাবে ধরা হলে প্রকৃত ছুটির সংখ্যা কমে যায় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ন্যায্য বিশ্রামের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
সবশেষে আবেদনে রমজান মাসে পূর্ণ ছুটি বহাল রাখা এবং শুক্র–শনিবারকে বার্ষিক ছুটির হিসাব থেকে বাদ দিয়ে নতুনভাবে ছুটির তালিকা পুনর্বিন্যাস করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)


.webp)
