আন্তর্জাতিক
অ্যাপ ব্যবহার করে জালনোট বানাতো ওরা
রাজধানীর ডেমরা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, এসব জালনোট তৈরির জন্য ব্যবহার করা হতো অ্যাপ। যে অ্যাপে নির্ধারিত টাকার সাইজ, ফরম্যাট, ছাপ সবকিছু ঠিক করা ছিল। পরে প্রিন্টারে বেরিয়ে আসতো নির্ধারিত টাকার নোট। বড় নোট জাল করে ধরা পড়ার আশঙ্কা বেশি, তাই চক্রটি শুধু ৫০ টাকার নোট জাল করতো।
পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে জালনোট তৈরির সঙ্গে জড়িত। এ অভিযোগে এর আগেও তারা গ্রেফতার হয়েছিল। আর সে সময় ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট তৈরি করত তারা। বড় নোটের বিষয়ে সবাই একটু যাচাই-বাছাই করে, সে জন্য আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ৫০ টাকার নোট তৈরি করে। রমজান এবং ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ২ কোটি টাকার জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
ডেমরা থানা পুলিশ জানায়, চলতি মার্চ মাসেই ডেমরা থানা এলাকার সারুলিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেয় চক্রটি। ইন্টারনেট ব্যবসার কথা বলে বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারখানা খুলে বসে তারা। এই জাল নোট চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ নাবিল হোসেন (২১)। সে পলাতক রয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দুদিনের রিমান্ডে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
রিমান্ডে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছে, রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, লালবাগ, ডেমরা এলাকায় এই চক্রের এজেন্ট রয়েছে। তারা মূলত রাতে জালনোট তৈরি করত। প্রতি রাতে দুই লাখ টাকার সমপরিমাণ জাল নোট তৈরি করতে পারত। প্রতি লাখ জাল টাকা তারা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত।
ডেমরা থানা এলাকার সারুলিয়া টেংরার, ১২৯/৪-এ দেলোয়ার হোসেনের তিন তলা বাড়ির নিচতলায় পূর্ব পাশের রুম থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) জালনোট তৈরির সঙ্গে জড়িত এই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকার জাল নোটের ২৪টি বান্ডেল পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি ক্যানন প্রিন্টার, একটি ল্যাপটপ, একটি হাতুড়ি, একটি পেপার কাটার, একটি এন্টি কাটার, একটি স্ক্রিন প্রিন্ট মেশিন, ওয়ালপেপার, দুইটি স্প্রে পেইন্ট, সোনালি রঙের ঘোড়া ২০০ গ্রাম, দুটি কালো রঙের হ্যান্ড ব্যাগ, ২০টি ৫০ টাকার জাল নোটের প্রিন্টেড কাগজ, এ-ফোর সাইজের কাগজ ১০৪ পিস এবং ৫২ পিস পাতলা সাদা কাগজ।
এরপর শুক্রবার (১৮ মার্চ) সকালে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে মূলহোতাসহ আরও কয়েকজন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো মো. ইমরান হোসেন (২১), মিলন হোসাইন (২৬), ইলিয়াস মিয়া (৩৪), সবুজ আহাম্মেদ (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (৩৮), মোহাম্মদ আলিফ (২৩) ও মহিবুর রহমান মনির (৪৪)।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই চক্রের মূলহোতা নাবিলসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা এর আগে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা বা তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘জালনোট তৈরি চক্রের সঙ্গে নোট তৈরি টেকনিশিয়ান পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জালনোট তৈরির জন্য তারা যে অ্যাপটি ব্যবহার করে আসছিল, সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জালনোট তৈরির জন্য কাঁচামাল কোথা থেকে সংগ্রহ করতো, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কাঁচামাল উৎপাদন মেড ইন বাংলাদেশ লেখা রয়েছে।’
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

.jpg)
.jpg)






