আন্তর্জাতিক


শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা: যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হারাল ইরান


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার

শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা: যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হারাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।

 

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে অভিহিত করেছে। জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’ নামে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যেসব শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার তথ্য এসেছে:

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় নীতি, সামরিক বাহিনী ও বৈদেশিক কৌশলে তার চূড়ান্ত প্রভাব ছিল।

 

আবদুল রহিম মুসাভি
ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর (আরটেস) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম তার অধীনে পরিচালিত হতো।

 

আজিজ নাসিরজাদেহ
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

আলি শামখানি
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব। আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

 

মোহাম্মদ পাকপুর
ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক সামরিক কৌশল ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মোহাম্মদ শিরাজি
সর্বোচ্চ নেতার সামরিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করতেন।

 

হোসেইন জাবাল আমেলিয়ানরেজা মোজাফফারি-নিয়া
ডিফেন্সিভ ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এসপিএনডি)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণা কার্যক্রমে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সালেহ আসাদি
জরুরি কমান্ড কাঠামোর জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।

 

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরইরান

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে সংশোধনের প্রয়োজন ছিল।

জাপানকে যেভাবে গুপ্তচরদের ঘাঁটি বানিয়েছে রাশিয়া: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান

ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য আহরণের উদ্দেশ্যে জাপানকে কার্যত গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। জাপানের গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক আইনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি ইরানের

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে।

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১২

বিয়ের ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু খাবারের টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, খাসির বদলে পরিবেশন করা হয়েছে মুরগির মাংস। আর এতেই শুরু হয় বর ও কনেপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।