রাজনীতি


ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অর্থসংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সবাই নিয়ম মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

 

বুধবার রাজধানীতে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সেমিনারটির আয়োজন করে।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াতে ইসলামীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সবার আগে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে পারে।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৫০ বছরে অনেক সেমিনার ও কর্মশালা হয়েছে। এখন প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ এবং বাস্তব পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “কাজটা কিন্তু একটাই, আমার শহর আমি পরিষ্কার রাখব। আমার কাজটা আমি করি। লেট মি ডু মাই জব। আমারটা আমি পরিষ্কার করি, তাহলে সব পরিষ্কার হবে।”

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজধানীর জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

এ ছাড়া টেলিভিশন, বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ঢাকার প্রাকৃতিক খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো উদ্ধার, পরিষ্কার এবং নদীর সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে তুরাগসহ আশপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী ও খাল রক্ষা করা না গেলে ঢাকার পরিবেশগত সংকট আরও গভীর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদী পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও অর্থ, উভয়েরই প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সবাই নিয়ম মেনে চললে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 


সম্পর্কিত

মির্জা ফখরুলবর্জ্য

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার তৎপরতায় ভারতের দায় আছে: সালাহউদ্দিন

ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলেই কেবল ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে। একক প্রার্থী হলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকার ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখুক: নাহিদ ইসলাম

গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সংবিধান সংশোধনে সবার মতামত নেবে বিশেষ কমিটি

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে একটি গ্রহণযোগ্য ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সংশোধনী প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে কমিটি।