আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: কৌশলগত দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে ২,৫০০ মেরিন পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ নামে পরিচিত এই বিশেষ বাহিনীকে মূলত হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাঠানো হচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের মাইন পেতে রাখার সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। পেন্টাগনের আশঙ্কা, ছোট ও দ্রুতগামী নৌযান ব্যবহার করে ইরান সহজেই এ ধরনের মাইন স্থাপন করতে পারে, যা বিমান নজরদারি এড়িয়ে যেতে সক্ষম।
মার্কিন সামরিক সূত্রের মতে, ইরান এসব ছোট বোট কাছাকাছি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিচালনা করতে পারে। ফলে ওই দ্বীপগুলোকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা ‘নিউট্রালাইজ’ করাই মেরিন ইউনিটটির প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। এ জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৩১তম মেরিন ইউনিটকে দ্রুত আরব সাগরে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যে অভিযান চালানো যায়।
এই মেরিন ইউনিটের সঙ্গে থাকবে লজিস্টিক সহায়তা, যুদ্ধবিমান এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ। সাধারণত এ ধরনের ইউনিটের বহরে একটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ থাকে, যা এমভি–২২ ওসপ্রে, পরিবহন হেলিকপ্টার এবং এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বহন করতে পারে। পাশাপাশি পদাতিক বাহিনী ও উভচর সাঁজোয়া যানও মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকে।
অতীতে মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটগুলো যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়াও বিভিন্ন জরুরি অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। দূতাবাস থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া, জলদস্যু দমন কিংবা দ্রুত সামরিক হস্তক্ষেপের মতো অভিযানে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও তেল অবকাঠামোতে আঘাত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম বিশেষ বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা প্রণালী এলাকায় ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের ফলে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট আকারের দ্রুত সামরিক অভিযান কখনো কখনো তাৎক্ষণিক সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
ইরানকে কড়া বার্তা ইরাকের শিয়া নেতা আল-সাদরের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সাদর। তিনি বলেছেন, ইরাককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘এখন পর্যন্ত সেরাগুলোর একটি’, বললেন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠককে "এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা" বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দুই দেশের জোটকে "গ্রানাইটের দেয়ালের মতো দৃঢ়" বলে বর্ণনা করেন।

মার্কিন ঘাঁটিতে অভিযানে নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ ফিরছে দেশে
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এক অভিযানে নিহত ইরানি পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, ধসে পড়া শপিংমলে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পের পর বুধবার পর্যন্ত ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে প্রশাসন।









