আন্তর্জাতিক
একসময় ওয়াশিংটন দখল করে হোয়াইট হাউজে আগুন, আজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেই দেশ

১৮১৫ সালের দখলদারিত্বের চিত্রণ
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের প্রবাহে একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮১৪ সালে, যখন যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন দখল করে এবং হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তবে ইতিহাসের চমকপ্রদ বাস্তবতা হলো যে দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল, আজ সেই দেশই বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এই ঘটনার পটভূমি ছিল ১৮১২ সালের যুদ্ধ। সমুদ্র বাণিজ্য, নৌ-আধিপত্য এবং উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই সেই সংঘাত শুরু হয়।
১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনে প্রবেশ করে এবং একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজ, আইনসভা ভবন ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যেখানে একটি বিদেশি বাহিনী রাজধানী শহরে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন ও তার প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
ব্রিটিশ সেনারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং পরে পুরো ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ইতিহাসবিদ নিয়ল ফারগুসন বলেন, “১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক মুহূর্ত ছিল। তবে সেই সংঘাতই পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।”
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জোসেফ নায় মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ দুই শতক আগে এই দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনী মার্কিন রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল।
যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন শহর পুনর্গঠন করা হয় এবং হোয়াইট হাউজ পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও বদলে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয় এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয় যে দেশ একসময় প্রতিপক্ষ ছিল, সময়ের প্রবাহে সেই দেশই কখনও কখনও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হতে পারে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
বাংলাদেশ সীমান্তে বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের পরিকল্পনা ভারতের!
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে বিষধর সাপ ও কুমির মোতায়েনের একটি পরিকল্পনার দাবি ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ চলবে: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তেহরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: মমতার হাসি কি মুছে দিতে যাচ্ছেন মোদি?
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বুথফেরত ও প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার জরিপে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল উঠে এসেছে, যা নির্বাচনকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

রাজা চার্লসকে বললেন ‘আপনি আমার মায়ের ক্রাশ ছিলেন’ : ডোনাল্ড ট্রাম্প
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সফরের অংশ হিসেবে রাজা চার্লস মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেন এবং হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন।









