আন্তর্জাতিক


একসময় ওয়াশিংটন দখল করে হোয়াইট হাউজে আগুন, আজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেই দেশ


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার

একসময় ওয়াশিংটন দখল করে হোয়াইট হাউজে আগুন, আজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেই দেশ

১৮১৫ সালের দখলদারিত্বের চিত্রণ


আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের প্রবাহে একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮১৪ সালে, যখন যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন দখল করে এবং হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

তবে ইতিহাসের চমকপ্রদ বাস্তবতা হলো যে দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল, আজ সেই দেশই বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।

 

এই ঘটনার পটভূমি ছিল ১৮১২ সালের যুদ্ধ। সমুদ্র বাণিজ্য, নৌ-আধিপত্য এবং উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই সেই সংঘাত শুরু হয়।

 

১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনে প্রবেশ করে এবং একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজ, আইনসভা ভবন ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যেখানে একটি বিদেশি বাহিনী রাজধানী শহরে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন ও তার প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

 

ব্রিটিশ সেনারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং পরে পুরো ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।

 

ইতিহাসবিদ নিয়ল ফারগুসন বলেন, “১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক মুহূর্ত ছিল। তবে সেই সংঘাতই পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।”

 

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জোসেফ নায় মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ দুই শতক আগে এই দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনী মার্কিন রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল।

 

যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন শহর পুনর্গঠন করা হয় এবং হোয়াইট হাউজ পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও বদলে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয় এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

 

ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয় যে দেশ একসময় প্রতিপক্ষ ছিল, সময়ের প্রবাহে সেই দেশই কখনও কখনও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হতে পারে।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরআন্তর্জাতিক

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

ইরানকে কড়া বার্তা ইরাকের শিয়া নেতা আল-সাদরের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সাদর। তিনি বলেছেন, ইরাককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘এখন পর্যন্ত সেরাগুলোর একটি’, বললেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠককে "এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা" বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দুই দেশের জোটকে "গ্রানাইটের দেয়ালের মতো দৃঢ়" বলে বর্ণনা করেন।

মার্কিন ঘাঁটিতে অভিযানে নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ ফিরছে দেশে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এক অভিযানে নিহত ইরানি পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩, ধসে পড়া শপিংমলে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান

ভূমিকম্পের পর বুধবার পর্যন্ত ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে প্রশাসন।