আন্তর্জাতিক


যুদ্ধবিরতির পথে আংশিক সাড়া? যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা ইরানের


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

আপডেট:২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

যুদ্ধবিরতির পথে আংশিক সাড়া? যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা ইরানের

ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন । ছবি: রয়টার্স


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।

 

বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে ইরান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

 

আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে।

 

এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

তবে হোয়াইট হাউস এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করে উল্টো হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসরায়েলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে আগাম হামলার সুযোগ বজায় রাখতে চায় ইসরায়েল।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

তবে পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইরানের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পাল্টা হিসেবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে।

 

বুধবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

 

সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর বিশ্ব শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে নতুন করে হাজারো সেনা পাঠানো হতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবরমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধযুদ্ধবিরতিইরান

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান পুনর্গঠনে সক্রিয় চীন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয় নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ভূরাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের, ‘ইরানকে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না’

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নীতিমালার পরিপন্থি হবে।

সৌদি আরবে এক বছরে ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, উদ্বেগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন কারাগারে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হয়। এর ফলে চলতি বছরে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে।

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

দীর্ঘদিন ধরে চলা দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ককে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সাম্প্রতিক এক রায়ে আদালত বলেছেন, কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত না হলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।