আন্তর্জাতিক
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের জবাব দেয়নি ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন
ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম জুমবাংলা। হাইকমিশনের ভিসা হেল্প ডেস্ক ও সাধারণ ইমেইল, উভয় ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনের শুরুতেই জুমবাংলা উল্লেখ করেছে, এতে উত্থাপিত বিষয়গুলো ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ। এ বিষয়ে হাইকমিশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
জুমবাংলার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সপ্তাহে মাত্র একদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট খোলা হয়। ঠিক সেই সময়ে সাধারণ আবেদনকারীরা একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সার্ভার ব্যস্ত দেখায়, মোবাইল বা ইমেইলে ওটিপি পৌঁছায় না, "নেক্সট" বাটন কাজ করে না এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের পরও সেটি অন্য আবেদনকারীর হিসাবে যুক্ত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলার দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কেউই কোনো নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহারের কথা স্বীকার করেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর পুরো আবেদন একটি অজ্ঞাত পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাদের পরিচয় তারাও জানে না।
এজেন্সিগুলোর দাবি, মোবাইল নম্বরের স্থানে বাজার থেকে সংগ্রহ করা নিবন্ধনহীন সিম ব্যবহার করা হয়, যেগুলো সক্রিয় না করেই একাধিক আবেদনে ব্যবহার করা সম্ভব। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সিমে কল করা না গেলেও এসএমএস আসে। পরে ওটিপি পাওয়া গেলে সেটিও ওই অজ্ঞাত পক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে দেওয়ার নামে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত ভিসা সার্ভিস চার্জ ১ হাজার ৫০০ টাকা। নিজ উদ্যোগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ব্যর্থ হয়ে অনেক আবেদনকারী বাধ্য হয়ে ট্রাভেল এজেন্সির শরণাপন্ন হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুমবাংলার পাঠানো চিঠিতে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভার ও ডেটাবেজে কারা প্রবেশাধিকার পান এবং গত ১ জুলাই আইভ্যাকের প্রতারণা-সংক্রান্ত সতর্কবার্তার পর সেই প্রবেশাধিকার পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না। পাশাপাশি সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই আইভ্যাক এক বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার নামে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছিল। একই সময়ে আবেদনকারীর নিজের পছন্দমতো সময় নির্বাচন করার সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়।
জুমবাংলা জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো আবেদনকারী ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে পাঠানো নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। হাইকমিশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে ভারতীয় হাইকমিশনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
ভারতীয় ভিসার অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম জুমবাংলা। হাইকমিশনের ভিসা হেল্পডেস্ক ও সাধারণ ইমেইল—উভয় ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার তীব্র প্রতিবাদ ভারতীয় মুসলিমদের
‘বন্দে মাতরম’কে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা: নাম্বেওর সূচক
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সূচকেও অঞ্চলের বড় শহরগুলোর তুলনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাজধানী। বৈশ্বিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নাম্বেও প্রকাশিত ২০২৬ সালের অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওপিটি চাকরির সুযোগে ১ লাখ ডলার ফি ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির সুযোগ পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





