আন্তর্জাতিক
কুরবানির ঈদ ঘিরে ‘গো-রক্ষক’ বাহিনীর আতঙ্কে ভারতের মুসলিমরা

কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ততই বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা। গরুবাহী ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি, পশু পরিবহনের অভিযোগে হামলা, মুসলিম ব্যবসায়ীদের ঘিরে হয়রানি এবং “গো-রক্ষার” নামে সহিংসতার আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, কুরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। “গো-রক্ষক” পরিচয়ে দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে তারা পশুবাহী যানবাহন থামাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের জেরা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরু পাচার বা গোহত্যার অভিযোগ তুলে একাধিক গণপিটুনি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে এবারের কুরবানির ঈদকে ঘিরেও মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ঈদকে সামনে রেখে আগেভাগেই কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। কোথাও পশুর হাটে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, কোথাও কুরবানির স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে কুরবানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে।
২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে কুরবানির ঈদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে গোহত্যা নিষিদ্ধের পক্ষে কড়া অবস্থান এবং কুরবানি ঠেকাতে কঠোর মনোভাবের বিভিন্ন বক্তব্য অনেক পরিবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদ এলেই কিছু এলাকায় মুসলিমদের ওপর নজরদারি বেড়ে যায়। পশু পরিবহনের সময় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ বাড়ে এবং উগ্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাও হঠাৎ করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে পশু কেনা বা পরিবহন করতে ভয় পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কুরবানির ঈদ মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় বিশ্বাস, ত্যাগ ও উৎসবের প্রতীক হলেও ভারতের কিছু অঞ্চলে তা এখন নিরাপত্তা ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।
একাধিক মানবাধিকারকর্মী মনে করছেন, যদি সাধারণ মানুষ কুরবানির পশু বাড়িতে আনতেও ভয় পান, তাহলে সেটি শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার সংকট নয়, বরং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান পুনর্গঠনে সক্রিয় চীন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয় নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ভূরাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের, ‘ইরানকে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না’
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক নীতিমালার পরিপন্থি হবে।

সৌদি আরবে এক বছরে ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, উদ্বেগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন কারাগারে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হয়। এর ফলে চলতি বছরে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে।

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ’ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে চলা দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ককে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সাম্প্রতিক এক রায়ে আদালত বলেছেন, কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত না হলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।








