
২০০৪ সালে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যান, তারপর শুরু হয় প্রতারণার নানা কৌশল শেখা। মূলত তখন থেকেই টাইলস ব্যবসায় হাতেখড়ি। ২০১৪ সালে ফোসান সিরামিক ও হাইটেক সিরামিক লিমিটেডের নামে আমদানিতে অধিক মূল্য দেখিয়ে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। ৪টি ব্র্যান্ডের সিরামিকস বা টয়লেট সামগ্রির ব্যবসার আড়ালে প্রতারিত করেছেন শত শত মানুষকে।
এখানেই শেষ নয়, প্রতারণার সেই টাকা দিয়ে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন প্রায় ১৩০ বিঘা জমি। সেই জমি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিয়েছেন তিনশত কোটি টাকার ঋণ। দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৩৯টি অ্যাকাউন্ট ও বিদেশে ৩টি ব্যাংকে অ্যাকাউন্টও রয়েছে তার।
প্রতারণার মাধ্যমে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শত কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে জিয়াউদ্দীন ওরফে জামানকে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, জামানের নামে বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ ১৮টির বেশি মামলা রয়েছে। আটক জামান নিজেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা এমডি হিসেবে দাবি করেন।
এছাড়াও তার অস্ট্রেলিয়া, চায়না, হংকং, ওমান ও দুবাইয়ে নানাবিধ ব্যবসা রয়েছে বলে ভুয়া প্রচারণা চালান। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে প্রলুব্ধ করে ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযানে বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৭টি চেক বই, ৬ বোতল বিদেশি মদ, ৯৯ হাজার টাকার জালনোট, ৬ হাজার জাল ইউএস ডলার, প্রতারণামূলক কার্যকলাপের জন্য ফোসান সিরামিক প্ল্যান্ট এবং জিয়া টাওয়ারের কাঠামোগত ভবিষ্যত পরিকল্পনা, ওমানে অর্থ পাচারের তথ্যাদি, প্রতারণামূলক কার্যকলাপের জন্য জাপানে তৈরি স্টিকার, ৫ ধরনের আইডি এবং বিজনেস কার্ড, নগদ ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ২০০ কোটি টাকা নেওয়ার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিয়া ব্যবসায়িক প্রতারণা ও বিভিন্ন বিষয়াদি ও কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতারণায় হাতেখড়ি, অর্ধশত কোটি টাকা পাচার, ২০০৯ সালে প্রবাসে থাকা অবস্থায় টাইলস ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন, দুটি দেশের মাফিয়াদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা এক দেশ হতে অন্য দেশে স্থানান্তরসহ নানা অপকর্মের কথা জানিয়েছেন। এতে অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়।
২০১৪ সাল থেকে ফোসান সিরামিক, হাইটেক সিরামিক লিমিটেডের নামে আমদানির ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে টাইলস আমদানি দেখাতেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ওই সমস্ত দেশে ৬ শতাংশ কোম্পানি ও ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ নিজে গ্রহণ করতেন বলে স্বীকার করেছেন জিয়া।



