

হুমায়ুন কবির মাসুদ:মনে করুন আপনাকে কেউ বললো দুধ আর আনারস একসাথে খেতে, কি করবেন? প্রথমত নিজের কথা চিন্তা করে বলবেন “না”। কারণ দুধ ও আনারস একসাথে খেলে মৃত্যু হয়। এ কথাটি আমরা সব সময় শুনে থাকি। আনারস আর দুধ একসঙ্গে কিংবা পরপর খেলে সত্যিই কি মানুষ মারা যায়? কথাটি কি সত্য ?
দুধকে বলা হয় আদর্শ খাবার। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেটের দারুণ এক ‘মিক্সচার’। দুধই একমাত্র তরল জাতীয় খাবার, যেখানে প্রায় সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে।
অপরদিকে আনারস হচ্ছে আশঁ জাতীয় খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ”সি”। তাছাড়া ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের ঘাটতি পূরণের এক অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আনারস। দেশের বিভিন্ন জেলায় আনারসের ব্যাপক ফলন হওয়ায় তা সহজে খেতে পারে মানুষ।
ছোটকাল থেকে শুনে আসা তথ্য বলে আনারস ও দুধ একসাথে খেলে বিষক্রিয়া হয়। তবে এ তথ্য ভুল প্রমাণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য মতে, ‘আনারস ও দুধ একই সঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া হয়ে মানুষ মারা যান এটি সম্পূর্ণ ভূল ধারণা। এগুলো এক ধরনের ফুড ট্যাবু বা খাদ্য কুসংস্কার বলে ধারণা করেন তারা। আনারস একটি এসিডিক ও টকজাতীয় ফল। দুধের মধ্যে যেকোনো টকজাতীয় জিনিস দিলে দুধ ছানা হয়ে ফেটে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এটা কমলা ও দুধের মিশ্রণ বা তেতুঁল ও দুধের বেলাতেও একই ঘটে। ফেটে যাওয়া দুধ খেলে পেট খারাপ বা বদহযম হতে পারে তাই বলে যে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু হবে এর কখনই যৌক্তিকতা নেই। ”
তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের আনারস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার কারণ তারা খালি পেটে আনারস খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে , আনারস এবং দুধ বিরতি দিয়ে খাওয়াই উত্তম । দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুধ খেলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। নয়তো অনেক সময় পাকস্থলিতে খাবার যাওয়ার পর প্রচন্ড বদহজমের সৃষ্টি হতে পারে। তবে সঠিকভাবে আনারস এবং দুধের মিশ্রণ হলে বিষক্রিয়া তো নেই বরং উপকারই রয়েছে।



