লাইফস্টাইল


ইফতারে মুড়িতে জিলাপি: এই বিতর্কের শেষ কোথায়?


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ইফতারে মুড়িতে জিলাপি: এই বিতর্কের শেষ কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত


রমজান এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় এক মজার ‘যুদ্ধ’ ইফতারের মুড়িতে জিলাপি মেশানো হবে কি হবে না। একপক্ষে ‘কট্টরপন্থী’ ভোজনরসিকরা, যাদের মতে পেঁয়াজু-বেগুনি-ছোলা-মুড়ির সঙ্গে জিলাপির মিলন অমৃতসমান। অন্যপক্ষে ‘বিশুদ্ধবাদী’রা, যাদের চোখে ঝাল-নোনতা মুড়িতে মিষ্টি জিলাপি মাখানো একেবারেই ‘ফুড ক্রাইম’।

 

বাঙালির ইফতার মানেই বড় একটি বাটিতে মুড়ির সঙ্গে নানা উপকরণের সমাহার ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, শসা, টমেটো, ধনেপাতা আর সরিষার তেলের সুবাসে তৈরি এক বিশেষ স্বাদ। এই ‘মুড়িমাখা’ অনেকের কাছে যেন এক ধরনের শিল্প।

 

বিতর্কের শুরু তখনই, যখন কেউ সেই বাটিতে ভেঙে দেয় কয়েক টুকরো জিলাপি। কেউ এটাকে স্বাদের নতুন মাত্রা বলে স্বাগত জানায়, আবার কেউ বিস্মিত হয়ে বলে ওঠে, “আমার মুড়িতে জিলাপি কেন?” এখান থেকেই শুরু হয় অম্ল-মধুর বিতর্ক, যা বছর ঘুরে প্রতি রমজানেই ফিরে আসে।

 

জিলাপির ইতিহাস মুঘল আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মেশানোর রীতি এসেছে পুরান ঢাকার ইফতার সংস্কৃতি থেকে এমন ধারণা অনেকের। চকবাজারের ইফতারে ঘিয়ে ভাজা বা শাহী জিলাপি মুড়ির সঙ্গে খাওয়ার চল বহু বছরের।

 

অনেক ভোজনরসিকের মতে, ছোলার ঝাল, লেবুর টক আর জিলাপির মিষ্টি মিলিয়ে তৈরি হয় এক অদ্ভুত ভারসাম্য। উত্তরের কিছু অঞ্চলে সরাসরি জিলাপি না মাখালেও ‘বুন্দিয়া’ দিয়ে মুড়ি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ফলে নোনতা-মিষ্টির এই মিশেল তাদের কাছে অচেনা নয়।

 

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে গত কয়েক বছরে জিলাপি-মুড়ি বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০১৯-২০২০ সালের দিকে “ইফতারে মুড়িতে জিলাপি মাখানো বন্ধ চাই” এবং পাল্টা “মুড়িতে জিলাপি মাখানো নিয়ে মারামারি চাই” এমন হাস্যরসাত্মক ইভেন্টও দেখা গেছে।

 

মিম পেজ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একে ‘সিভিল ওয়ার’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কেউ এটিকে ‘জগাখিচুড়ি’ বলেন, কেউ আবার এটাকে ‘স্বাদের বৈচিত্র্য’ বলে আখ্যা দেন।

 

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী নিয়ামুতুল ইসলাম শান্ত বলেন, মুড়ির সঙ্গে জিলাপি খাওয়া স্বাদের অপমান। ঝালের সঙ্গে মিষ্টির কোনো সামঞ্জস্য নেই।” অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুসফিরাত ওমর বলেন, “মুড়িতে জিলাপি দিলে সব ধরনের স্বাদ পাওয়া যায়। যারা বিপক্ষে, তারা আসলে মজা বোঝে না। বেসরকারি চাকরিজীবী আবু হেনা তাসমেরিও বলেন, “ঝালের সঙ্গে একটু মিষ্টি দিলে স্বাদটা অন্যরকম হয়।

 

স্বাদ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্বাস্থ্যগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক ফেরদৌস রাসেল বলেন, “ইফতারে অতিরিক্ত তেলেভাজা ও মিষ্টি খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা খাবার খোলা অবস্থায় বিক্রি হয়। এতে অ্যাসিডিটি, বদহজম ও পেটের সমস্যা হতে পারে।”

 

জিলাপি-মুড়ি বিতর্ক আসলে এক ধরনের ‘নিরাপদ বিতর্ক’। ধর্ম বা রাজনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয় নয়, বরং রুচির পার্থক্য নিয়ে মজার তর্ক। কারও কাছে এটি স্বাদের বিস্ময়, কারও কাছে অরুচিকর।

 
 

সম্পর্কিত

ইফতারমুড়িজিলাপি

জনপ্রিয়


লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন

যেসব খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

ইফতারে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সারা দিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এজন্য একজন ব্যক্তির জীবনধারা, বয়স ও বিদ্যমান রোগ অনুযায়ী ব্যক্তিনির্ভর খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

শীতের নিস্তেজ ত্বকে ফিরিয়ে আনুন হারানো লাবণ্য

শীতকাল মানেই নরম রোদ, শীতল বাতাস আর আরামদায়ক আবহ। তবে ত্বকের জন্য এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত তার স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারাতে শুরু করে। ফলাফল ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ। আয়নায় তাকালে অনেকেরই মনে হয়, ত্বক যেন ত

কুসুম না সাদা অংশ—ডিমের কোনটা বেশি উপকারী?

ছোট–বড় সবারই প্রিয় খাবার ডিম। সকালের নাশতা হোক কিংবা ডায়েট চার্ট ডিম প্রায় সবার তালিকায় থাকে। তবে ওজন কমানো বা মাংসপেশি গড়ার কথা উঠলেই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে ডিমের কুসুম খাব, নাকি শুধু সাদা অংশই যথেষ্ট? অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়েই কুসুম ফেলে দেন। কিন্তু পু

বিয়ে করলেই মিলবে ১৬ লাখ টাকা, সন্তান জন্ম দিলে দ্বিগুণ!

পরিবার গঠনে তরুণদের উৎসাহিত করতে অভিনব আর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল হাবতুর গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো আমিরাতি কর্মী বিয়ে করলে পাবেন মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান, আর বিয়ের পর সন্তান জন্ম দি