জাতীয়
সরকারের তিন মেয়াদে অভূতপূর্বভাবে এগিয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে গত সাড়ে তেরো বছরে উন্নয়নের সব সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্বভাবে এগিয়েছে। মেগা-প্রকল্পগুলো দ্রুত এগোচ্ছে। আমরা সফলভাবে করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছি। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়েছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নিয়েছি। এরইমধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করেছি এবং এর বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
রোববার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়। ৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ যথাক্রমে ১৬৭টি এবং ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সব সংসদ সদস্য রেসকোর্স ময়দানে ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ নেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গণপরিষদ গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকার শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়। মেহেরপুর হয়ে উঠে অস্থায়ী সরকারের রাজধানী এবং সেদিন থেকে এ স্থানটি ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিতি পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে, অস্থায়ী সরকার ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকে। নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞ চিত্তে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চারনেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে স্মরণ করেন।
এছাড়াও বাণীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দিবসটি উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
‘শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে যেকোনো বিচার প্রক্রিয়া আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে।

‘ইন্টারনেট চালু করবা না’, পলককে নির্দেশ দিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনার তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া সেই ‘কালো মানিক’ এবার কুরবানির হাটে, দাম কত?
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের খামারি সোহাগ মৃধার বাড়িতে এখন যেন মানুষের ঢল নেমেছে। কারণ সেখানে রয়েছে বিশাল আকৃতির আলোচিত ষাঁড় ‘কালো মানিক’, যা একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই গরুটিকেই কুরবানির বাজারে তুলতে যাচ্ছেন খামারি।

.jpg)







