জাতীয়
বনানী কবরস্থানে সাহাবুদ্দীন আহমদের দাফন রোববার
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রোববার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
শনিবার সকালে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির মৃত্যুর পর দুপুরে এ তথ্য জানান তার মেয়ের জামাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহাদুজ্জামান।
তিনি জানান, রোববার সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রথম জানাজা হবে নিজ বাড়ি নেত্রকোনায়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে হবে দ্বিতীয় জানাজা। পরে বনানী কবরস্থানে তার শেষ জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমইচ) মারা যান সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। বছরটির ২৩ জুলাই তিনি আওয়ামী লীগের দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খুবই সীমিত, তবু তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার সততা এবং প্রজ্ঞা দ্বারা বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান জয় করেন। ১৪ নভেম্বর, ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
এর আগে ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পায়।
সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দীন আহমদ। ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পেমই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তালুকদার রিসাত আহমেদ। তিনি একজন সমাজসেবী ও এলাকায় জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
সাহাবুদ্দীন আহমদের স্ত্রীর নাম আনোয়ারা বেগম। তিনি তিনটি কন্যা ও দুটি পুত্র সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠা কন্যা ড. মিসেস সিতারা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। দ্বিতীয়া কন্যা মিসেস সামিনা পারভীন একজন স্থপতি। তার পুত্র শিবলী আহমেদ একজন পরিবেশ প্রকৌশলী। আরেক পুত্র সোহেল আহমেদ কলেজ ছাত্র। সর্বকনিষ্ঠা কন্যা সামিয়া পারভীন চারুকলার ছাত্রী।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
এসএসসির ফলাফলে মাইলস্টোন কলেজের প্রশংসনীয় সাফল্য
প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলেও প্রশংসনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাইলস্টোন কলেজ। চলতি বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ১৪৯৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং পাস করে ১৪৮৮ জন। এ বছর সারাদেশে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ হলেও মাইলস্টোন কলেজে পাসের হার ৯৯.৬৭ শতাংশ। পাসকৃতদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১৩ জন শিক্ষার্থী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই যোদ্ধাকে সিএনজি ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দুই যোদ্ধার কর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বগুড়ার ৬৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে দেওয়া হয়েছে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

হামে আরও ৬ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮১৮
দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ড. ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
.jpg)


