জাতীয়


মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ
মো. জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৬তম জন্মদিন আজ শুক্রবার। দিনটি উপলক্ষে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক, কৃষক–শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী নেতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন ছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর মানবিক অবস্থান, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আপসহীন রাজনৈতিক মনোভাব আজও বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবে ‘চেগা মিয়া’ নামে পরিচিত ভাসানী দরিদ্র পরিবারে বড় হলেও ন্যায়–সত্যের প্রতি তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে আলাদা পরিচয় দেয়। ১৯০৭ সালে ভারতবর্ষের দেওবন্দে ইসলামি শিক্ষাগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আসামের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ভাষণ তাঁকে রাজনৈতিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার উৎসাহ দেয়। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং কারাবরণ করেন। ১৯২৬ সালে কৃষক–প্রজা আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ১৯২৯ সালের ঐতিহাসিক ভাসানচর সম্মেলনের সূত্রে তাঁর নামের শেষে ‘ভাসানী’ যুক্ত হয়।

বাংলা ভাষা আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করার প্রতিবাদে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পরে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের গণআন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁহার নেতৃত্ব ছিল দিকনির্দেশক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত লংমার্চ দক্ষিণ এশিয়ার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। একই বছরের ১৭ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মওলানা ভাসানীর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন।

বাংলার রাজনীতিতে মওলানা ভাসানী আজও সততা, সংগ্রাম ও মানবতার প্রতীক।

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।