বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সৈনিক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীরউত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করেন তিনি।
শপথ গ্রহণ শেষে আরফান হোসেন বলেন, ছোটবেলায় নিজের চোখের সামনে বোনকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। তিনি বলেন, “আমার বয়স তখন মাত্র ছয় বা সাত বছর। ওই ঘটনার পর পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিল। সেই সময় থেকেই মা–বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন দেশের সেবায় বিজিবিতে যোগ দিই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে নিজেকে গড়ে তুলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, নিজের জীবন বিপন্ন হলেও সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারার চেষ্টা রুখে দেব। সীমান্তে আমার বোনের মতো আর কাউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হোক একজন বিজিবি সদস্য হিসেবে তা কখনোই চাই না। কোনো মা–বাবা যেন তাদের সন্তান হারানোর সেই যন্ত্রণা আর না পায়।”
আরফান হোসেন গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ২০২২ সালে কুড়িগ্রামের নাখারগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ফেলানী খাতুন। পরে তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রায় ১৫ বছর পর সেই ফেলানীর ছোট ভাই আজ বিজিবির সৈনিক হিসেবে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিতে শপথ নিলেন।
এদিন আরফান হোসেনসহ মোট তিন হাজার ২৩ জন নবীন রিক্রুট শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইপিআর সদস্য এবং ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসির কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

.webp)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)


