জাতীয়
তেল নিতে গিয়ে বাইকারকে পাম্প কর্মীর লাথি!
নিজেদের দেশের মালিক মনে করছেন পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা। খারাপ আচরণ ও তেল নিতে গিয়ে অপমান—এখন যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
মূলত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। সরবরাহ কম, চাহিদা বেশি—এই বাস্তবতায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলা। তবে সংকটের এই চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক কর্মচারী ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বাইকার গ্রাহককে পেট্রোল পাম্পের এক কর্মী লাথি মারছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই গ্রাহক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তেল চেয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে গিয়ে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কর্মীটি সরাসরি শারীরিক আক্রমণ করেন।
অনেক গ্রাহকের অভিযোগ—পাম্পের কিছু কর্মচারী নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে উল্টো ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। কথা বলার ধরন থেকে শুরু করে আচরণ—সবকিছুতেই যেন এক ধরনের কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব দেখা যাচ্ছে। পাম্পে গেলে যেন মনে হয় তারা গ্রাহক নয়, বরং পাম্পেরি অধীনস্থ কেউ!”
শুধু একটি বা দুটি ঘটনা নয়—দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেই একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ধাক্কাধাক্কি, কোথাও তর্ক, আবার কোথাও সরাসরি হাতাহাতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, রয়েছে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও কর্মীদের আচরণগত প্রশিক্ষণের অভাব। দীর্ঘ লাইন ও চাপ সামলাতে দক্ষতা না থাকায় কর্মীরা দ্রুত উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে তদারকির অভাবও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল পাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে জরুরি ভিত্তিতে মনিটরিং বাড়াতে হবে। কর্মীদের জন্য আচরণগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া—এসব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সবশেষে একটি বিষয় পরিষ্কার—পেট্রোল পাম্পের অস্তিত্বই নির্ভর করে গ্রাহকদের ওপর। সেই গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সেবাখাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের আবাসনে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব, ভাতাভোগী বাড়ছে ১,৮৫৭ জন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য চলমান মাসিক ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭ জন বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্ট জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দেবে সরকার
আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালন করবে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।





