আবারও ফিরে এসেছে তারা দ্বিগুণ হয়ে, বলছিলাম গুলিস্তানের ফুটপাত ও রাস্তায় ব্যবসা করা হকারদের কথা! যারা পেটের দায়েই বার বার অপমানের পরও ফিরে আসে ব্যবসার তাগিদে।
কিছুদিন আগেও উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ফুটপাতগুলো এখন আবার দোকানে ঠাসা, আর আগের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বেশি হকার নিয়ে জমে উঠেছে এই এলাকা। হাঁটার পথ এখন কার্যত হারিয়ে গেছে, আর পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে গুলিস্তানের রাস্তা ও বায়তুল মোকাররম সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, ফুটপাত পুরোপুরি দখল করে বসেছে সারি সারি দোকান। শুধু ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ নয়—অনেক জায়গায় দোকানের মালামাল রাস্তার অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
হকারদের ভাষায়, উচ্ছেদ অভিযান এখন আর নতুন কিছু নয়—এ যেন এক ধরনের ‘লুকোচুরি খেলা’। পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট এলে তারা সরে যান, আবার চলে গেলে আগের জায়গাতেই বসেন। বহু বছর ধরে চলা এই চক্র ভাঙতে পারেনি এরশাদ, হাসিনা অথবা খালেদা জিয়ার সরকারও।
ফুটপাতে বসা একাধিক হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের জীবিকার একমাত্র ভরসা এই ব্যবসা। এই পেশার ওপর হাজার হাজার মানুষ নির্ভরশীল। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকলে ফুটপাত ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়া অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য এখান থেকেই কিনতে পারেন। এবং মার্কেটের ভেতরে যে পণ্য ২০০ টাকা, তারা সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। ফলে এই বাজার পুরোপুরি বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের ওপরও প্রভাব পড়বে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তার প্রভাব স্থায়ী হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই আগের অবস্থা ফিরে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কারণ হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট বাজারের ব্যবস্থা না থাকলে তারা আবার ফুটপাতেই ফিরে আসবেন।
গুলিস্তানের বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করে দিচ্ছে—সমস্যা আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে, বরং আরও বেড়েছে। হকাররা ফিরেছে দ্বিগুণ শক্তিতে, আর শহরের সংকটও হয়েছে দ্বিগুণ জটিল।










