জাতীয়


৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার

আপডেট:১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার

৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কর ফাঁকি রোধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা, রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং কর ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

 

প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালে এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা তুলনামূলক ছোট অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি ‘মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস)’ গ্রহণ করেছে, যার আওতায় রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, কর প্রশাসনের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি হ্রাস, কর আইন সরলীকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর ঝুঁকি নির্ধারণের কাজ চলছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, করদাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

 

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর অব্যাহতি এবং রাজস্ব ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানান, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া আদায়, নিলাম কার্যক্রম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান এবং ডিফার্ড পেমেন্টসহ বিভিন্ন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

 

এ ছাড়া ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩’ এবং ‘কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আশা করি, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ‘স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

 


সম্পর্কিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানজিডিপিজাতীয় সংসদ

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাই পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনায় সরকার

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্টসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সহজলভ্য করতে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রান্তিক কৃষককে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কৃষিখাতকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিয়ে নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড বাধ্যতামূলক করতে ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।