

বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখন শুধু মিটিং-মিছিল, পোস্টার বা জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতির বড় অংশ সরে গিয়েছে ডিজিটাল পরিসরে ফেসবুক টাইমলাইন, ইউটিউব শর্টস, টিকটক ভিডিও এবং এক্স (টুইটার) থ্রেডে। তবে এই ডিজিটাল রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট হলো এখানে যা দেখা যায়, তার সবটাই বাস্তব নয়। অনেক সময় দৃশ্যমানতাই বাস্তবতার জায়গা দখল করে নেয়। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে ওঠে এক ধরনের “কৃত্রিম জনমত”, যেখানে গুজব, অপতথ্য ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি মিলেমিশে রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে জামায়াত-শিবিরপন্থী অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপগুলোর অস্বাভাবিক সক্রিয়তা। পোস্টের পর পোস্ট, মন্তব্যের ঢল, লাইক ও শেয়ার দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে তারা কি ভোটের রাজনীতিতেও এগিয়ে? বাস্তবতা ভিন্ন। সোশ্যাল মিডিয়ার চিত্র ও মাঠের জনমত এক নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম এমনভাবে কাজ করে যে ব্যবহারকারী যেসব কনটেন্ট একবার দেখেন, সেগুলো বারবার তার সামনে আসে। অল্প কিছু সংগঠিত কনটেন্টও “সবাই এটাই বলছে” এই ধারণা তৈরি করতে পারে। ধরুন, কেউ একদিন কয়েকটি জামায়াতপন্থী পোস্টে ইন্টার‌্যাকশন করেছেন। অ্যালগরিদম ধরে নেবে, এটাই তার আগ্রহ। পরের দিন একই ধরনের কনটেন্ট আরও বেশি দেখানো হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই একজনের সামনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য বারবার ভেসে উঠতে শুরু করে। এটি জনমত নয় এটি ‘অ্যালগরিদমিক বাস্তবতা’, যা বাস্তব ভোটার সমাজের প্রতিফলন নয়।
জামায়াত-শিবিরপন্থী অনলাইন তৎপরতা স্বাভাবিক উপস্থিতি নয়। এখানে স্পষ্টভাবে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে। একই পোস্ট, একই ভাষা, একই গ্রাফিক্স একাধিক আইডি থেকে শেয়ার হচ্ছে। মন্তব্যের ভাষা প্রায় হুবহু, বানান ভুলও একই। বিশেষজ্ঞরা এটিকে “ডিজিটাল অর্কেস্ট্রেশন” বলছেন।
প্রচারণার বড় অংশ জুড়ে আছে বট ও ফেক আইডি। বিশ্বজুড়ে নির্বাচন ও গণভোটে বট ব্যবহার হওয়া সাধারণ ঘটনা। বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। এসব আইডি ব্যক্তিগত ছবি বা পোস্ট নেই, বন্ধু সংখ্যা অস্বাভাবিক, দিনে অসংখ্য রাজনৈতিক মন্তব্য, মন্তব্যগুলো আবেগী, আক্রমণাত্মক এবং নির্দিষ্ট সময় সক্রিয়। বাস্তব ভোটার নয়, কিন্তু তারা বাস্তব ভোটারের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছড়ানো গুজবগুলো কয়েকটি ধারা অনুসরণ করছে—
ভুয়া ‘গোপন জরিপ’: দাবি করা হয় ভেতরের জরিপে জামায়াত এগিয়ে, উৎস প্রকাশ করা হয় না।
ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট: মানুষ সাধারণত বিজয়ীর পাশে দাঁড়াতে চায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার চিত্র মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে কি না এটাই মূল প্রশ্ন। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি নির্ধারিত হয় মাঠপর্যায়ের সংগঠন, গ্রাম-মফস্বলে উপস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি এবং অতীত নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে। গ্রামবাংলা, শ্রমজীবী শ্রেণি, নারী ভোটার ও মফস্বল অঞ্চলে জামায়াতের প্রভাব সীমিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা সবচেয়ে বেশি সরব, তারা মূলত শহুরে বা প্রবাসী নেটওয়ার্ক, সংগঠিত আদর্শিক কর্মী বা বট।
গণভোটে মানুষ সরাসরি সিদ্ধান্তে ভোট দেয়। যদি ভোটার ভ্রান্ত তথ্য বা আবেগী গুজবের ওপর ভিত্তি করে ভোট দেন, পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা নষ্ট হয়। ধর্মীয় ভয়, ষড়যন্ত্রমূলক ভাষা বা ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়ায়। এক গুজব শুধু একজন ভোটারকে বিভ্রান্ত করে না এটি গণতন্ত্রের ভিত্তিক দুর্বলতা তৈরি করে।
সংবাদকর্মীর দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশ নয়। মাঠের পাশাপাশি টাইমলাইনে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনটা তথ্য, কোনটা অপতথ্য তা আলাদা করা জরুরি। নাগরিকদেরও শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই, অজানা আইডি বা আবেগপ্রবণ পোস্টে সতর্ক থাকা উচিত।
সোশ্যাল মিডিয়া শক্তিশালী, কিন্তু সর্বশক্তিমান নয়। শেষ কথা ভোটারই বলে। ব্যালট বাক্সে ভোটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার ঝড় মাঠের ভোটারদের বাস্তব চিত্র নয়। গ্রামবাংলা, মফস্বল, শ্রমজীবী শ্রেণি, নারী ভোটার এগুলো মূল ভোট ব্যাংক, যেখানে জামায়াতের প্রভাব সীমিত। টাইমলাইনের শব্দ কখনো মাঠের আওয়াজ নয়।
ডিজিটাল রাজনীতি এখন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু এটির প্রভাব সীমিত। বাস্তব জনমত, মাঠের সংগঠন, ভোটার উপস্থিতি এগুলোই চূড়ান্ত। গণমাধ্যম ও নাগরিকরা দায়িত্বশীল হলে এই ডিজিটাল বিভ্রান্তি মোকাবিলা সম্ভব।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবন ও ব্যবহারের অপরাধে মো. ফারুক নামে এক ব্যক্তির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সাতক্ষীরার জেলার, তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।