

দক্ষিণ আফ্রিকার জুলু রাজ্যের নতুন রাজার অভিষেক নিয়ে রাজ পরিবারে এক বছর ধরেই বিবাদ চলে আসছিলো। অবশেষে নানান জল্পনা কল্পনা শেষে দেশটির ননগোমা প্রাসাদে এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অভিষেক হলো প্রিন্স মিসুজুলু কা জুয়েলথিনির।রাজা হিসেবে আসন গ্রহণ করার আগে প্রিন্স মিসুজুলু যে রাজ্যের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য, তা প্রমাণ করার জন্য একটি সিংহ শিকার করতে হয়েছিলো। আর সেই শিকার করা সিংহের চামড়া গাঁয়ে জড়িয়ে তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এরপর মুকুট পরিধানের মাধ্যমে রাজা হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।অভিষেক অনুষ্ঠান দেখতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এ দিন সকালে নতুন রাজা প্রিন্স মিসুজুলু গবাদিপশু রাখার পবিত্র খোঁয়াড়ে প্রবেশ করার মাধ্যমে তার পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেবে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাচীণ জাতীগোষ্ঠী জুলুর রয়েছে এক গর্বিত ইতিহাস। ১৮৭৯ সালে ইসান্ডলওয়ানার যুদ্ধে জুলুরা ব্রিটিশ সৈন্যদের পরাজিত করেই মূলত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল।তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, জনসংখ্যার দিক দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম বড় জাতিগোষ্ঠী হবার পরেও সেখানে জুলু রাজার কোন আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। অবশ্য জুলু রাজ্য বেশ প্রভাবশালী। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় পাচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে জুলু জাতিগোষ্ঠী, যাদের উপর রাজা নৈতিক প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।এই প্রভাবশালী রাজ্যকে দেশটির সরকার প্রতিবছরই ৪৯ লক্ষ ডলার বাজেট প্রদান করে থাকে। ৪৮ বছর বয়সী প্রিন্স মিসুজুলু কা জুয়েলথিনি হচ্ছেন সাবেক রাজা জুয়েলথিনির তৃতীয় স্ত্রী রানী মান্টফোম্বি দলামিনির বড় সন্তান। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাজ্য পরিচালনা করে আসা রাজা জুয়েলথিনি ব্যক্তি জীবনে ছয় জন স্ত্রী এবং অন্তত ২৮ জন সন্তানের জনক ছিলেন। তবে তার তৃতীয় স্ত্রী রানী মান্টফোম্বি আরেকটি রাজকীয় পরিবারের কন্যা হওয়ায় স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।মূলত জুলু রাজার সাথে রানী মান্টফোম্বির বিয়ের শর্তই ছিল তৎকালীন রাজার মৃত্যুর পর তাদের প্রথম পুত্রই হবে সিংহাসনের দাবিদার।রাজা জুয়েলথিনি মারা গেলে তিন মাস রাজমাতার দায়িত্ব পালনের পর রানী মন্টফোম্বিও মারা যান। তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হয়েছিলো তাদের ছেলে মিসুজুলু কা জুয়েলথিনিই পরবর্তী রাজা হবেন। এছাড়া তার মায়ের উইলেও উত্তরসূরি হিসেবে মিসুজুলুর নাম রাখা হয়েছিল।তবে প্রয়াত রাজার আরও দুই ছেলে সিংহাসনে ওপর নিজেদের দাবি তুলে ধরায় শুরু হয় ঝামেলা। এছাড়া রাজপরিবারের কিছু সদস্যও রানী মান্টফোম্বিকে রাজার মূল স্ত্রী হিসাবে সম্পূর্নরুপে গ্রহণ করতে পারেননি। যার কারণেই মূলত নতুন রাজা কে হবে তা নিয়ে রাজ পরিবারে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়।এর আগে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে জুলুদের মাঝে যেসব যুদ্ধ হয়েছিল তা সবসময় ছিল বেশ ভয়ঙ্কর। যার কারণে সবার আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলো এই জুলু রাজার সিংহাসন গ্রহণ।গত মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে মিসুজুলু কা জুলেথিনিকে নতুন জুলু রাজা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। যার মাধ্যমেই সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে।



