
বিশাল ধ্বস আইফোনের বাজারে! দরিদ্র হচ্ছে মানুষ! দ্রুত পড়তে শুরু করেছে আইফোনের বিক্রি! দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম এ্যাপল কোম্পানির! কিছুদিন আগেও অ্যাাপল প্রোডাক্টগুলোর আকাশচুম্বী চাহিদা থাকলেও এখন আর সেটি নেই! বৈশ্বিক মন্দায় আশংকাজনক হারে কমেছে আয়, আর এতেই চাহিদা কমেছে স্মার্টফোনের মতো পণ্যগুলোর। শুরুতে কোভিড মহামারী এরপর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনৈতিক মন্দার জেরে প্রভাব পড়ছে বিশ্বের স্মার্টফোনের বাজারেও। সদ্য বিদায়ী বছরে ১২ শতাংশ কমেছে স্মার্টফোনের বিক্রি! এমন তথ্যই জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস। বিক্রির এই নিম্নমুখী ধারার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোতে ও।স্যামসাং , অ্যাপল থেকে শুরু করে বিক্রি পতন হয়েছে চাহিদার শীর্ষে থাকা ব্র্যান্ডগুলোর। এর মধ্যে ২০২২ সালের সর্বশেষ অক্টোবর- ডিসেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলএর বিক্রি কমে গেছে আট শতাংশ।আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়ার ধাক্কায় মুনাফা কমেছে আইফোনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেক জায়ান্ট অ্যাপলের। যদিও গত বছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রি কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ শতাংশ। যেটি ২০১৯ সালের পর সবচেয়ে কম।শুধু আইফোনই নয়, প্রায় সব পণ্যেরই বিক্রি কমেছে অ্যাপলের। আইফোনের এর বিক্রি আট শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটারের বিক্রিও কমেছে প্রায় ঊনত্রিশ শতাংশ। এছাড়া চাহিদা কমেছে আই প্যাড কিংবা অ্যাপল ওয়াচের মত পণ্যগুলোরও।বিশ্ববাজারে আইফোনের ক্রমাগত নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ভিন্নরকম পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। দ্যা ভার্গএর মতে নিম্নমুখী এই প্রবণতার কারণে আইফোনের পরবর্তি সিরিজকে আপাতত বাজারমুখী করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।সাপ্লাই চেইন এবং অনুমান বিশ্লেষণে ২০২৪ সালে আইফোনের নতুন কোনো সিরিজ হয়তো বাজারে আসছে না এমনটি মনে করছেন বিশ্লেষক মিং চি কু। অ্যাপলের পণ্যের বিক্রিতে হটাৎ ধ্বসকেই এর পেছনে অন্যতম কারণ মনে করছেন তিনি। এদিকে বিশ্ববাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন অ্যাপোলোএর প্রধান নির্বাহী টিম কোকো। আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে চীনের কোভিড লকডাউনের কারণে সৃষ্ট সাপ্লাই চেন সংকটকে দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সুদের হার বাড়াকেও একটি কারণ মনে করা হচ্ছে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে নয়, বৈশ্বিক মন্দায় পণ্য বিক্রির এই মন্দাভাব বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা। আর এতে কমছে কোম্পানির মুনাফাও। সর্বশেষ প্রান্তিকে অ্যাপলের মুনাফা কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তেরো শতাংশ।চলমান অস্থিরতায় বিশ্ব বাজারে পরিবর্তন এসেছে ফোন তৈরির কাচামাল থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত। দৈনন্দিন জীবনে ব্যয় বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুদের হার বাড়াচ্ছে অন্যান্য ব্যাংক গুলোও। তাই অনেকটা নিরূপায় হয়েই জীবন যাত্রার মান কমাতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। উর্ধ্বগতির দৈনন্দিন জীবনের খরচে ভারসাম্য আনতে বিলাসবহুল ও সৌখিন হিসেবে পরিচিত পণ্যের কেনাকাটা থেকে বিরত থাকছেন মানুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র পাল্টে গেলে চলমান এই বাজারের দৃশ্যপট পাল্টাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।



