

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ গানের ব্যবস্থা থাকেই আজকাল। বর কনের বিশেষ দিনটি নেচে গেয়ে উদযাপন করেন তাঁদের বন্ধু-বান্ধবেরা। গত শনিবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছিলেন মুতাম নামের এক যুবক। আর অনুষ্ঠানে এসেই নাচতে নাচতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি।ভারতের তেলাঙ্গানার আদিলাবাদ জেলার কুভীর মণ্ডলের পরদি নামক গ্রামে সেরকমই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ১৯ বছর বয়সী যুবকের বাড়ি মহারাষ্ট্রের শিভুনি গ্রামে। মুতাম বন্ধুর বিয়ের রিসিপশনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেজেগুজেই। এক পর্যায়ে আনন্দ করতে গিয়ে তেলেগু গানের তালে তালে নাচছিলেনও। আনন্দে আত্মহারা হয়ে শার্টের সবগুলো বোতামও খুলে ফেলেছিলেন। ভেতরের স্যান্ডু গেঞ্জি দেখিয়ে বলিউড তারকার মতো কোমর দোলাচ্ছিলেন।তবে নাচের মধ্যেই ঘটে মর্মান্তিক সেই ঘটনা। হটাৎই নাচের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত দর্শকেরা ভেবেছিলো এটা হয়তো নাচেরই কোনো অংশ। তাঁরা ভ্রুণাক্ষরেও টের পান নি যে শিভুনির দম ফুরিয়ে এসেছে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই তাঁর দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে যায়। তাঁকে এভাবে মাটিতে লুটিয়ে পরে থাকতে দেখে দ্রুতই ভাইঁসাতে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুরো ঘটনাটি মোবাইলের মাধ্যমে রেকর্ড হয়েছে আর তা দ্রুতই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মুতাম আনন্দ-উল্লাসের মেজাজে ছিলেন। তাঁর নাচের সঙ্গে তাল দিচ্ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিরাও। মাটিতে লুটিয়ে পরার কিছুক্ষণ পর তাঁর আত্নীয়রা অনেকবার ডাকাডাকি করেন। সেই সাথে তাঁকে ধাক্কাও দেওয়া হয়। একবার কিছুটা ওঠার চেষ্টা করেন, বেশ কিছুক্ষণ একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে পৌঁছে তাঁকে তোলার চেষ্টা করেন। তবে তারপর কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি মুতাম এর কাছ থেকে। প্রাণপাখি উড়ে চলে যাওয়ার পর নিথর দেহটি মাটিতে পরে থাকে। হাসপাতালের ডাক্তার জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে ওই যুবকের। এর আগেও গত ৪ দিনের মাথায় তেলঙ্গনায় দুইবার এরকম ঘটনা ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে হায়দরাবাদে Gym করতে গিয়ে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৪ বছর বয়সী এক পুলিশ কনস্টেবল। এছাড়াও বেঙ্গালুরুতে একটি কলেজ ফেস্টে নাচতে নাচতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন ২৬ বছরের এক মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র। পরে তিনিও মারা যান। ওই ছাত্রের নাম ছিলো অভিজিৎ শিল্ড। তিনি মহারাষ্ট্রের নাসিকে থাকতেন। ইদানিং ভারতে করোনার পর হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা খুব বেড়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। ডাক্তাররা এই হটাৎ হার্ট এ্যাটাকের কারণ হিসেবে শরীরে ডাইবেটিস, ব্লাড প্রেশারকে দায়ী করেছেন।এছাড়াও অনেকেই মদপান ও ধুমপান করেন, যা হার্ট এ্যটাকের অন্যতম কারণ। মানসিক চাপ, একাকিত্বে থাকা ও সঠিক ব্যায়াম ও খাওয়া দাওয়ার অভাবেও মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অনেকে জিমে গিয়ে মেদ-ভুরি কমাতে ও শক্তি সঞ্চারের জন্য অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময় পর অতিরিক্ত ব্যায়াম করা হৃদরোগে আক্রান্ত করার জন্য দায়ী।



