
এক কেজি সবজির দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা! শুনে চমকে গেলেন? অবাক শুনালেও ‘হপ শুটস’ নামের এক প্রকারের সবজি আছে যেটির দাম অত্যন্ত আকাশচুম্বী। এক ধরনের থোকা থোকা ফুলবিশিষ্ট গাছের ডগা ‘হপ শুটস’। এটি যেমন বিশ্বের সবচেয়ে দামি সবজি, তেমনই এর পুষ্টিগুণও অনেক। এই গাছের ফুল, ফল, কাণ্ড, মূল- সবটাই ব্যবহৃত হয় ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে। সাধারণ খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি তা থেকে তৈরি হয় বিয়ার। অন্যদিকে, এর নির্যাস থেকে বানানো হয় ক্যান্সার, যক্ষ্মা, অনিদ্রা, মানসিক বিভিন্ন রোগের ওষুধ। হপ শুটসের দাম এত বেশি হওয়ার কারণ মূলত এটি উৎপাদন করতে কৃষকদের অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হয়। এগুলো অভিন্ন সারিতে জন্মায় না এবং প্রতিটি ফসল তোলার সময় নিচু হয়ে ঝুঁকে ঝুঁকে তুলতে হয়। সেই সাথে ফুলগুলো এত ছোট যে এক ব্যাগ ভর্তি করতে শত শত ফুল তুলতে হয়। এই সবজিকে মনে করা হয় এক ধরনের ভেষজ ঔষধি, যার মধ্যে রয়েছে এসেনশিয়াল অয়েল, ভিটামিন ও খনিজ। এতে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন সি'তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে আনে। সবজিটি দেখতে অনেকটা অ্যাসপারাগাসের মতো। খেতেও অনেকটা সে রকমই। অ্যাসপারাগাস যেভাবে রান্না করে খেতে হয় এই সবজিও সে ভাবেই খেতে পারবেন। এছাড়া এর আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে।পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, হপ শুটসে থাকা প্রাকৃতিক তেল ও খনিজগুলোর ত্বকের ওপর একটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে এবং সারফেস ব্লাড ভেসেল কমাতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে ত্বকে লালচেভাব ও জ্বালাপোড়া কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়াও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে চুল ধুতে বিয়ার ব্যবহৃত হয় কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হপস, যা চুল পড়া হ্রাস করে ও খুশকি কমায়। অনেকে পেশী ও শরীরের ব্যথা কমাতে হপস ব্যবহার করে। এটি শরীরের মেটাবলিজমকে ত্বরাণ্বিত করে এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, হপস সবজিতে প্রচুর এসেনশিয়াল অয়েল থাকায় এটি সুখকর নিদ্রায় সাহায্য করে। অন্যদিকে, এতে থাকা এসেনশিয়াল অয়েলে রয়েছে ব্যথা প্রশমনের মতো উপাদান; এবং এর সিডাটিভ ইফেক্ট নারীদের ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সিডাটিভ গুণের কারণে এটি শরীরের পেশীগুলোকে আলগা করে এবং ব্যথা কমায়। হপ শুটস সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলে জন্মায় এবং সর্বোত্তম বৃদ্ধির জন্য অন্তত ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ হিমায়িত তাপমাত্রার প্রয়োজন পড়ে। তবে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও কম তাপমাত্রায়ও হপ গাছ বেঁচে থাকতে পারে! সাধারণত, এ গাছের ফুল - হপ কোনস সহ নানা অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুসারে, বেলজিয়াম ও হল্যান্ডে এক কেজি হপ শুটস কেনার জন্য গুণতে হয় ১০০০ ইউরোরও বেশি। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ১২ হাজার টাকার কাছাকাছি।দামি এই সবজিটি যারা খেয়েছেন, তারা জানিয়েছেন, কাঁচা অবস্থায় এটা অনেকটা বিছুটি জাতীয় গাছের মতো! মুখে দেওয়ার পর মনে হলো এর ডাটাগুলো কষাটে এবং পাতাগুলো ঘাসের মতো; মুখে নিলে মুখ শুকিয়ে আসে। তবে রান্না করা অবস্থায় এর স্বাদের পরিবর্তন ঘটে। পাতাগুলো তখন কিছুটা বাধাকপির মতো রূপ নেয় এবং এক ধরনের হালকা কটু স্বাদ আসে। বাংলাদেশ কিংবা এশিয়ায় এর চাহিদা না থাকায় খুব একটা চাষ দেখা যায় না। ইউরোপ ও আমেরিকায় এর বহুল চাষ দেখা যায়।



