রাজনীতি
সমর্থন জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বললেন, শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার
শনিবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) আয়োজনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যবসায়ী সম্মেলনে তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এফবিসিসিআই সভাপতি এতে সভাপতিত্ব করেন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষে থেকে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভবিষ্যতে আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মো. জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তার বক্তব্যে বলেন, আপনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেটি ধরে রাখার জন্য আপনাকে প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আপনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে চাই। এ জন্য সব ব্যবসায়ী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা আগামীতে আপনার নেতৃত্বে বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে চান।
এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আধুনিকতার উৎকর্ষে বদলে যাবে বাংলাদেশ। আমি মনে করি সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব। সে জন্য শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামীতে আমাদের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো। এরজন্য শিল্প কৃষি সেবাখাতে অব্যাহত বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরবিচ্ছিন্ন রাখার প্রচেষ্টা নিতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ভবিষ্যতে আট লেন রাস্তা করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার। এর কোনো বিকল্প নাই। আমরা আপনার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আজকে শেখ হাসিনার বিকল্প শুধু শেখ হাসিনা। ব্যবসায়ীরা সবসময় চায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। একসময় আমরা দেখেছি আগুনসন্ত্রাস, আবার হরতাল-অবরোধ, আবার পদযাত্রা মিছিল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মিটিং করুক, মিছিল করুক। জনজীবনকে বিপদগ্রস্ত করে কোনো রাজনীতি হতে পারে না। আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য এদেশের অর্থনীতি। এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। গণতন্ত্র মানে এই না যে আপনি যা খুশি তাই করবেন। মানুষের জানমাল রক্ষা করতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি করতে হবে। আজকে বাংলাদেশ নাম এলেই বলে প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা। একসময় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ বলত, এখন বঙ্গবন্ধু প্লাস শেখ হাসিনার বাংলাদেশ বলে।
এক-এগারোর সময় ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানে আবার এক-এগারোর সরকার। এই স্বপ্ন যদি কেউ দেখে আমার মনে হয় আমাদের এই ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট, এটাকে কীভাবে প্রতিহত করতে হবে। সেই স্বপ্ন দেখে আর কারও লাভ নাই। এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আবার তত্ত্বাবধায়কের নামে এক-এগারোর সরকার নিয়ে আসবে এবং যত বিত্তশালী সমাজে প্রতিষ্ঠিত স্থানে গেছেন, তাদের ওপর জুলুম অত্যাচার হবে। আমাদের যমুনা গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান উনি জেলে ছিলেন, আমাদের এডভাইরজার সালমান সাহেব উনি জেলে ছিলেন। তাই এইসব ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী যে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন সে অনুযায়ী যদি আমরা এগিয়ে যাই এ দেশে গরীব বলতে কোন শব্দ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আছি, আজীবন আপনার সঙ্গে থাকব। আমৃত্যু আমরা আপনার সঙ্গে থাকব। কারণ আপনার ব্যতিক্রম শুধু আপনি। আজ সারা দুনিয়ার চমক শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা সারা দুনিয়াকে আকৃষ্ট করতে পারে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন— ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবির) সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার,ব্যবসায়ী নেতা কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, হা-মীম গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ, সেলিম ওসমান,নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমেদ, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম, বিজিএমএই’র সভাপতি ফারুক হাসান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, এইচএসবিসি ব্যাংকের সিইও মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়্যারম্যান আবদুল মুক্তাদির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি সামির সাত্তার, সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নেত্রী সেলিনা মেরী, নিহাদ কবির, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন,বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদসহ অনেকে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি
টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
.jpg)
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)