রাজনীতি


নিরপেক্ষ ভোট হলে আ. লীগ ১৪৮-১৬৬ আসন পেতে পারে: অর্থনীতি সমিতির গবেষণা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

নিরপেক্ষ ভোট হলে আ. লীগ ১৪৮-১৬৬ আসন পেতে পারে: অর্থনীতি সমিতির গবেষণা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৪৮-১৬৬টি আসন পেতে পারে। আর বিএনপি ১১৯-১৩৭ ও অন্যান্য দলগুলো ১৫টি আসন পেতে পারে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ‘ভোটারের মন ও আসন্ন ২০২৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন। অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত উপস্থাপিত এই গবেষণাপত্রে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের বিষয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

সংবাদ সম্মেলনে ড. আবুল বারকাত বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে এবং সব দল, প্রার্থী ও ভোটারের জন্য নির্বাচনী মাঠ সমান হলে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৪৮ থেকে ১৬৬টি, বিএনপি ১১৯ থেকে ১৩৭টি এবং অন্যান্য দল ১৫টি আসন পেতে পারে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি আসনের ভাগ্য মোটামুটি নির্ধারিত, যেগুলো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভিত্তি আসন’ বা ‘সম্ভাব্য বিজয় নিশ্চিত আসন’। এই ১৫৫টি ভিত্তি আসনের মধ্যে ৭০টি করে আসন পেতে পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বাকি ১৫টি আসন পেতে পারে জাতীয় পার্টি, জামায়াত, এলডিপি ও বিজেপি।

তিনি আরও বলেছেন, বড় দুই দলের মধ্যে যেকোনো দলকে সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় আরও ৮১টি আসন পেতে হলে ‘দোদুল্যমান ভোটারদের’ ভোটের ওপর নির্ভর করতে হবে। যেকোনো আসনে জিততে হলে দোদুল্যমান ভোটারদের ৫৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদানের সিদ্ধান্তে দ্রব্যমূল্য, মানব নিরাপত্তা, পদ্মা সেতু, ২০১৮ সালের নির্বাচন, নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ ঘোষণা অবজেক্টিভ ফ্যাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি বিজয় নিশ্চিত এবং ১৪৫টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখবেন দোদুল্যমান ভোটাররা। তবে ভিত্তি আসন অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে বিজয় নিশ্চিত আসনে দোদুল্যমান ভোটারদের ভূমিকা থাকবে কম। অন্যদিকে বিজয়-অনিশ্চিত আসনের ভাগ্য নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা থাকবে দোদুল্যমান ভোটারদের।

এই‌ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, বিভিন্ন অনুসিদ্ধান্তভিত্তিক হিসাবপত্রে দেখা গেছে, দেশের ১৪৫টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ৭৮-৯৬টি আসন এবং বিএনপি ৪৯-৬৭টি আসন পেতে পারে। পদ্মা সেতুর কারণে পদ্মা সেতু ভোট লভ্যাংশ হিসেবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২৩টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের সবকটিতে আওয়ামী লীগ এবং ঢাকাসহ দেশের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর অঞ্চলের ১২২টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৫-৭৩টি এবং বিএনপি ৪৯-৬৭টি আসন পেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল বহাল থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে জোট হতে পারে জাতীয় পার্টির সাথে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এককভাবেও সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে। যদি তাদের আসন সংখ্যার গতিমুখ সর্বোচ্চ সম্ভাব্য-আসনমুখী হয় (অর্থাৎ সর্বনিম্ন ১৪৮ আসন থেকে সর্বোচ্চ ১৬৬ আসনমুখী হয়)। সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল যদি বহাল থাকে, তাহলে বিএনপির পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন সম্ভাবনা নেই। তবে বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের গাণিতিক যে সম্ভাবনা আছে, তা যথেষ্ট শর্তসাপেক্ষ। এক্ষেত্রে বিএনপিকে অবশ্যই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন প্রাপ্তি (১৩৭টি আসন) নিশ্চিত করে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ অন্য সবার সাথে জোটবদ্ধ হতে হবে। একইসাথে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সংখ্যক (১৪৮টি আসন) আসনের বেশি হতে পারবে না। এত বেশি শর্তসাপেক্ষ বিধায় বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা ক্ষীণ।


সম্পর্কিত

আওয়ামী লীগ

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।