ধর্ম


২৮০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত কাবা শরীফের দরজা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার

২৮০ কেজি স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত কাবা শরীফের দরজা
পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দরজাগুলোর মধ্যে অন্যতম কাবা শরীফের দরজা। পবিত্র ঘরের এই দরজায় শুধু স্বর্ণই ব্যবহার করা হয়েছে ২৮০ কেজির মতো। এর পাশাপাশি কারুকার্য এবং অন্যান্য শৈল্পিক বৈশিষ্টের কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দরজায় পরিনত হয়েছে এটি। ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে সম্মানিত এ ঘরের দরজা ৩ দশমিক ১ মিটার লম্বা এবং দুই মিটার চওড়া। এছাড়া পুরুত্ব রয়েছে প্রায় অর্ধেক মিটার। এটির নির্মান উপকরন হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরিমানে ব্যবহার করা হয়েছে খাটি স্বর্ণ। মক্কার বিখ্যাত স্বর্ণকার শেখ আহমদ বিন ইব্রাহিম বদরের কারখানায় তৈরি হয়েছে দরজাটি। শুধু এটি তৈরি করার জন্যই কারখানাটি বানানো হয়েছিলো বিশেষ ভাবে। এখানে দীর্ঘ বারো মাস ধরে কাজ করার পর তৈরি হয় কাবা ঘরের দরজা। বিশ্বের মূল্যবান এই দরজায় ব্যবহার করা হয়েছে সর্বমোট ২৮০ কেজি স্বর্ণ। এসব স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ছিলো নিরানব্বই দশমিক নিরানব্বই শতাংশ। অন্যান্য উপকরনের মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ ধরনের কাঠ। যা আমদানি করা হয়েছে থাইল্যান্ড থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ঘরের এ দরজা নির্মানে খরচ হয়েছিলো তেরো দশমিক চার মিলিয়ন রিয়ালের বেশি। এতো টাকা স্বর্ণ ছাড়া শুধুমাত্র অন্যান্য উপকরন এবং পারিশ্রমিকের পেছনে খরচ হয়েছে। ব্যবহৃত ২৮০ কেজি স্বর্নের মূল্য সহ হিসাব করলে খরচের পরিমান দাঁড়াবে আরো অনেক বেশি। পবিত্র ঘর কাবা শরীফের দরজা সর্বশেষ পরিবর্তন করা হয় ১৯৭৮ সালে। তখনকার সময়ে সৌদি আরবের বাদশাহ ছিলেন খালিদ বিন আব্দুল আজিজ। ১৯৭৭ সালে কাবা শরীফের পুরোনো দরজায় সমস্যা লক্ষ করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি নতুন দরজা নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী ডিজাইন আহবান করা হয় বিশ্বব্যাপী। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ডিজাইন জমা দেন সিরিয়ার প্রকৌশলী মুনীর আল জুন্দি। দীর্ঘ বিচার বিবেচনার পর সেটিই নির্বাচিত হয় কাবা শরীফের দরজা তৈরির জন্য। খাটি স্বর্ণে নির্মিত এই দরজার উপরি ভাগে লেখা রয়েছে আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) এর নাম। এছাড়া বিভিন্ন অংশে কারুকাজের মতো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহর গুণবাচক নাম এবং কিছু আরবি প্রবাদ বাক্য। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক শব্দ এবং ডিজাইনার হিসাবে মুনীর আল জুন্দির নামও খোদাই করা রয়েছে। ১৯৭৮ সালে তৈরি হওয়া এই দরজা বহাল আছে এখন পর্যন্ত। এর আগে কাবাঘরের দরজা ছিলো অটোমান সুলতান দের তৈরি। ১৬২৯ সালে মক্কায় বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো কাবা ঘরের দেয়াল। এই খবর পেয়ে সাথেসাথে নতুন দেয়াল এবং দরজা নির্মানের নির্দেশ দেন অটোমান সম্রাজ্যের তৎকালীন শাসক সুলতান মুরাদ। সে সময় কাবা ঘরের দরজা নির্মানের দায়িত্বে ছিলেন মিশরীয় প্রকৌশলীরা। তাদের কারিগরি দক্ষতায় শৈল্পিক নিদর্শনে পরিনত হয় এটি। দুই পাল্লায় ভাগ করে দরজায় বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা ফুটিয়ে তোলেন তারা, যা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো প্রায় ৯০ কেজি রুপা। এর উপরে ফুটিয়ে তোলা হয় স্বর্নে আঁকা বিভিন্ন নকশা। সেবারই প্রথম রুপা ও স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো কাবার এই দরজা, যেটি টিকেছিলো থাকে পরবর্তী তিনশো বছরের ও বেশি সময়। এরপর বর্তমান দরজার আগে আরেকটি দরজা নির্মিত হিয়েছিলো সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজের নির্দেশে। যেটি তে অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার কাঠামোর উপর দেয়া ছিলো স্বর্ণের প্রলেপ।


জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।