ধর্ম
ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়াগুলো পড়বেন
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)
আরও একটি হাদিসে এসেছে, “তিন ব্যক্তির দোয়া অগ্রাহ্য করা হয় না পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।” (বাইহাকি, ৩/৩৪৫)
ইফতার শুরু করার সময় হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া সুন্নত। তবে ইফতারের আগে, বিশেষ করে আজানের পূর্বমুহূর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়া যেতে পারে। কারণ এই সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।
১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
আরবি:
اللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু। আউযুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবূউ লাকা বিযানবি, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্যুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ:
হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর সাধ্যানুযায়ী অটল। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তোমার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো; নিশ্চয় তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
২. ইস্তিগফার
আরবি:
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ
উচ্চারণ:
আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ:
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
৩. লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা
আরবি:
لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ
উচ্চারণ:
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ:
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
৪. মন্দভাগ্য থেকে রক্ষার দোয়া
আরবি:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন জাহদিল বালা, ওয়া দারাকিশ শাক্বা, ওয়া সূইল কদা, ওয়া শামাতাতিল আ‘দা।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কঠিন বিপদ, দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ফয়সালা এবং শত্রুর উপহাস থেকে।
৫. হেফাজতের দোয়া
আরবি:
اَللّٰهُمَّ وَاقِيَةً كَوَاقِيَةِ الْوَلِيدِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ওয়াকিয়াতান কা ওয়াকিয়াতিল ওয়ালিদ
অর্থ:
হে আল্লাহ! নবজাতক শিশুকে যেমনভাবে হেফাজত করা হয়, আমাদেরকেও তেমনভাবে হেফাজত করুন।
জনপ্রিয়
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?
ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।









