ধর্ম
মাহে রমজান: শুধু রোজা নয়, এটি চরিত্র গঠনের মাস- আমরা কি চরিত্রও শুদ্ধ করছি?

ছবি: এআই । দূরবিন নিউজ
রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বর্জনের মাস নয়। এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বোধ বৃদ্ধির মাস। ইসলামের শিক্ষায় রোজা কেবল খাদ্য-বর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের চরিত্র গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- "হে ঈমানদারগণ! তোমরা রোজা ধরা উচিত, যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা ধার্মিক হয়ে ওঠো।" (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)
রমজানের মূল লক্ষ্য হলো ‘তাৎওয়া’ বা ধার্মিকতা অর্জন, যা মানুষের আচরণ ও চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন: "রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বঞ্চিত হওয়া নয়, বরং মিথ্যা বলা, রাগ, অশ্লীলতা ও অন্যায় আচরণ থেকেও বঞ্চিত হওয়া।" (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোজা মানুষের ধৈর্যশক্তি ও আত্মসংযম বৃদ্ধি করে। দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাধ্যমে ব্যক্তি মানসিকভাবে সহনশীল ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। এছাড়া, রোজার শিক্ষা মানুষের মধ্যে দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সহমর্মিতা জাগিয়ে সমাজের সম্পর্ককে দৃঢ় করে।
রমজানকে শুধুমাত্র খাদ্য-বর্জনের মাস হিসেবে দেখলে এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। দৈনন্দিন জীবনে রোজার শিক্ষা প্রয়োগ করতে হবে মিথ্যা বলা, গসিপ, অহংকার এবং সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এভাবে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে না, বরং নিজেকে সামাজিকভাবে উন্নত করতে পারবে।
রমজান স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার নিয়ন্ত্রণ মানেই চরিত্রের নিয়ন্ত্রণ। এই মাসের শিক্ষা বাস্তবে প্রয়োগ করলে এটি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য সমৃদ্ধ করে এবং মানুষের চরিত্রের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে।
জনপ্রিয়
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত
রমজান মাস কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার মাস। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করা, যা কোরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
.jpg)
ইতিহাসে দ্বিতীয় রমজান: শাকহাবের প্রান্তরে মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ
৯১ হিজরির ১ রমজানে আন্দালুস বিজয়ের যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ছয় শতক পর ৭০২ হিজরির ২ রমজানে সিরিয়ার মাটিতে রচিত হয় আরেক মহাকাব্যিক অধ্যায়। এদিন ‘শাকহাবের যুদ্ধ’ (১৩০৩ খ্রি.) কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নে এক চূড়ান্ত লড়াই।
.jpg)
ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়াগুলো পড়বেন
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)
.jpg)
ইফতারের সময় পাঠ করার দোয়া
রমজান মাসে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ইফতারের মুহূর্তে রোজাদারের দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না।
.jpg)

.jpg)


.webp)

.jpg)

