ধর্ম


রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার

আপডেট:২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার

রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত

রমজান মাস কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার মাস। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করা, যা কোরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—

হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩

রোজার প্রকৃত শিক্ষা ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন ও আচরণে সংযম ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। ইসলামি শিক্ষাবিদরা বিশেষভাবে ১০টি বিষয় উল্লেখ করেছেন, যেগুলো রোজা রাখার সময় এড়িয়ে চলাই উত্তম: মিথ্যা কথা ও মিথ্যা আচরণ: রোজাদারের সততা ও সত্যনিষ্ঠার পরিচায়ক।

গীবত ও অপবাদ: অন্যের নিন্দা ও গুজব থেকে বিরত থাকা। অশ্লীল ভাষা ও ঝগড়া: রাগ নিয়ন্ত্রণ ও ভদ্র আচরণ বজায় রাখা।

রাগ ও অসহিষ্ণুতা: আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য চর্চা। প্রতারণা ও মাপে কম দেওয়া: ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজে সততা। অপচয় ও বিলাসিতা: খাদ্য ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার। হারাম উপার্জন: বৈধ রুজি অর্জন ও ব্যয়। সময় অপচয়: ইবাদত ও সদ্ব্যবহারে সময়ের সদ্ব্যবহার।

লোকদেখানো ইবাদত: আন্তরিকতা ও বিনয় বজায় রাখা। অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা: ন্যায় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকা।

 

রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য নয়; এটি মানব চরিত্র ও সমাজে সততা, সহনশীলতা ও ন্যায়ের চর্চা প্রতিষ্ঠার সুযোগ। রোজার প্রকৃত সাফল্য আসে আচরণে পরিবর্তন ও নৈতিকতা দৃঢ় হওয়ার মধ্য দিয়ে।


জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।