ধর্ম


যে কারণে গত ৭০০ বছরেও খোলা হয়নি নবীজির রওজার মূল দরজা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ আগস্ট ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার

যে কারণে গত ৭০০ বছরেও খোলা হয়নি নবীজির রওজার মূল দরজা

গত ৭০০ বছর থেকে আজ পর্যন্তও কখনো খোলা হয়নি মদিনার সর্বাপেক্ষা পবিত্র স্থান নবীজি(সাঃ) রওজা শরিফের দরজা।

কারন হাজীরা যখন দরজা খোলা দেখতে পায়, তখন তাদের মাঝে কিছু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নবীর এত কাছাকাছি যেতে পেরে অনেক বেশি আবেগী হয়ে পড়েন।

এই সময়ে তারা না বুঝেই সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ করার অনুমতি নেই।

তাই এ ব্যাপারে নবীজির রওজা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সবসময় যথেষ্ট সচেতন থাকেন। তারা দরজা বন্ধ রেখে বেশ খানিকটা দূরে থেকেই মুসল্লিদের রওজা জিয়ারতের সুযোগ করে দেন।

আর উম্মতরা তখন সারিবদ্ধভাবে নবীর রওজা শরিফের সামনে গিয়ে দরূদ ও সালামে চারপাশ মুখরিত করে তোলে।

রাসূলুল্লাহর (সা.) কবরগাহের দেয়াল কালো পাথরে তৈরি। এটি নবী ও তার দুই সঙ্গীর কবরকে ঘিরে রেখেছে। 

৯১ হিজরিতে খলিফা হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (র.) দেয়াল নির্মাণ করেন, যাতে কেউ রাসূলের কবরগাহে প্রবেশ করতে না পারেন।

এছাড়াও এটি বন্ধ রাখার আরো একটি কারণ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেহ মোবারক চুরি বা ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা।

বহু আগে এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছিলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৫৫৭ ঈসায়ি সালে সুলতান নুরুদ্দীন (রহ.)-এর শাসনকালে দেহ মোবারক চুরির ঘটনা।

যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে আসলে সুলতান রওজা পাকের চারপাশে মাটির গভীর থেকে সিসা ঢালাই করে মজবুত দেয়াল নির্মাণ করে এর সুরক্ষার ব্যবস্থা করে দেন।

বর্তমানে রওজা মোবারকের দরজাটি স্থায়ি সোনালি রঙের গ্রীল দিয়ে এমনভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যাতে কেউ এটি সহজে খুলতে না পারে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবরগাহের কক্ষটি চারপাশে বেষ্টনীতে আবদ্ধ থাকায় রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার দুই সঙ্গীর কবর বাইরে থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। 

শুধু কামরাটির প্রবেশ পথের গ্রিলে তিনটি ছিদ্র পথ রয়েছে, যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার দুই সঙ্গীর কবর সরাসরি দেখা যায়। 

বাম থেকে প্রথম বড় ছিদ্রপথ দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা.) কবর, মাঝের ছিদ্রপথে হযরত আবু বকরের (রা.) কবর এবং সর্বডানের ছিদ্রপথে হযরত উমরের (রা.) কবর দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী নবীজির রওজা মোবারক নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে। বিভিন্ন দেশে নবীজি ও খলিফাদের ভুয়া রওজার ছবি দেখিয়ে অবৈধ অর্থ রোজগারের অপচেষ্টাও চালাচ্ছে অনেকে।

নবীজির জীবদ্দশায় যে ঘরটিতে স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে বসবাস করতেন সে ঘরটিতেই মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হয়।

মদিনায় অবস্থানকালে কবর জিয়ারতের পাশাপাশি হাজীদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে মসজিদে নববীতে হাজিরা দেয়া এবং সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।

নবী করীম সাল্লাহু সাল্লাম এর রওজা শরীফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূল সাঃ এর মিম্বর পর্যন্ত স্বল্প পরিসরের স্থান টুকুতে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেস্তের বাগিচা বলা হয়।

এই অংশটুকুতে কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে। সে স্তম্ভগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বা খুঁটি বলা হয়ে থাকে। দুনিয়াতে এটিই একমাত্র জান্নাতের অংশ।



জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?

ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।