ধর্ম


বৃষ্টির পর সবুজে ছেয়ে গেছে মক্কার পাহাড়, কেয়ামত কি তবে আসন্ন?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার

বৃষ্টির পর সবুজে ছেয়ে গেছে মক্কার পাহাড়, কেয়ামত কি তবে আসন্ন?

দীর্ঘদিনের একটানা বৃষ্টিতে হঠাৎই সবুজ হয়ে উঠেছে মক্কা নগরী। রুক্ষ পাহাড় ছেয়ে গেছে মনোরম সবুজ রঙে। দেখতে ভীষণ ভালো লাগলেও অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা জানান দিচ্ছে, কিয়ামত অতি সন্নিকটে। 

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা। সৃষ্টির শুরু থেকেই এই শহরের পাহাড়গুলো ছিলো ভীষণ রুক্ষ এবং শুষ্ক। রোদে পোড়া সেই বিবর্ণ পাহাড়গুলোর, হঠাৎ এমন সবুজ হয়ে ওঠার ঘটনা, অবাক করেছে বিশ্ববাসীকে। 

সম্প্রতি Haramain Sharifain -নামের ফেসবুক পেইজ থেকে, মক্কা নগরীর বেশ কিছু ছবি পোস্ট করা হয়। পাশাপাশি ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও 
শেয়ার করেছে তারা।

সেখানে দেখা যায়, মক্কার সেই পাহাড়গুলো আর আগের মতো নেই। বিবর্ণ পাহাড় যেন বদলে গেছে, অপূর্ব কোনো চারণভূমিতে। পাহাড়গুলোর এমন বদলে যাবার কারণ তুমুল বর্ষণ। 

বিগত কয়েকদিন যাবত মক্কাতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত বর্ষণের কারণেই রুক্ষ পাহাড়ের গায়ে এমন সবুজের দেখা মিলেছে। 

এবারের মৌসুমে মক্কার বৃষ্টি এতটাই বেশি ছিলো যে, শহরের কোনো কোনো অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি উপত্যকা ও তুলনামূলক নিচু ভূমিগুলো ছিলো তার মাঝে অন্যতম। 

ভারী বর্ষণের কারণে বেশ কয়েক কিছুদিন জুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানও স্থগিত রাখতে হয়েছে। 

মূলত, বিগত কয়েক মাস আগে সৌদি আরবে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়। বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় তখন, রাজদরবার থেকে সমগ্র দেশজুড়ে জারি হয় এক বিশেষ নির্দেশনা। 

সেখানে বলা হয়, বৃষ্টির আশায় দেশটির সকল মসজিদে যেন, ইসতিসকার নামাজ পড়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা হয়।

এটি এক বিশেষ ধরনের নামাজ। স্রষ্টার দরবারে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই নামাজটি আদায় করে থাকেন। 

সৌদি আরবের বিভিন্ন মসজিদে তা পালন করার পরই মূলত বৃষ্টি নামে সেখানে। এতেই রুক্ষ পাহাড় বদলে যায় সবুজ রঙে।

সৌদি নাগরিকদের মতে, এমন বৃষ্টি তারা আগে কখনো দেখেননি। বিগত কয়েক বছরে ২-৩ দিনের বৃষ্টিরও দেখা পাননি যারা, তারাই এবারে প্রতিদিন একটানা বৃষ্টি দেখেছেন।

তাই সবুজে ছাওয়া পাহাড়ের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়েছেন অনেকেই। সোশ্যাল সাইটের কমেন্টবক্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, সৃষ্টিকর্তার মহিমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

তবে অনেকেই এই ঘটনাতে বেশ আতংকিতও হয়ে পড়েছেন। কারন তারা একে দেখছেন, কিয়ামতের স্পষ্ট আলামত হিসেবে।

হাদীস শরীফে যেসব ঘটনাকে কিয়ামতের আলামত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তার মাঝেই একটিতে বলা আছে এই ঘটনার কথা।

কিয়ামত ততদিন অনুষ্ঠিত হবে না; যতদিন পর্যন্ত না সম্পদের প্রাচুর্য আসবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘুরলেও, যাকাত নেবার মত লোক সে পাবে না।

আরবের মাঠ-ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে। কিয়ামত সম্পর্কে এমনটাই বলে গেছেন বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (স.)।

আর মহানবীর সেই উদ্ধৃতির প্রেক্ষিতেই, মক্কার এ ঘটনাকে অনেকে কিয়ামতের আলামত বলছেন।
শুধু এটিই নয়, সম্প্রতি আরো অনেক ঘটনাকেই, কিয়ামতের আলামত হিসেবে গণ্য করছে মুসলিম বিশ্ব। 

বলা হয়েছে, কিয়ামত এগিয়ে এলে ফোরাত নদীর জল শুকিয়ে যাবে, আর তা থেকে উন্মোচিত হবে এক মস্ত সোনার পাহাড়। 

আশংকার বিষয় হলো, এই কথাকে সত্যি করে, এরই মধ্যেই ফোরাত নদীর জলও শুকাতে শুরু করেছে। এরই মাঝে মক্কার পাহাড় সবুজ হওয়ার ঘটনা যেন, কিয়ামতের আলামতকেই আরো অনেক বেশি জোরালো করে তুললো।



জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।