মাত্র কিছু দিন হলো শুরু হয়েছে নতুন বছর, ২০২৩। এ বছর বিশ্বরাজনীতিতে আসতে যাচ্ছে নতুন আমেজ।
বছর জুড়েই দেশে দেশে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের ৪টি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বছর।
যার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। ক্ষমতার পালা বদলে বইতে পারে পরিবর্তনের নতুন বাতাস।
৪টি মুসলিম দেশের মাঝে আছে তুরষ্ক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশ। নির্বাচনকে ঘিরে শুধু এসব দেশের অভ্যন্তরেই নয়, প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বরাজনীতিতেও।
তুরস্কে ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে একই রাজনৈতিক দল। পাকিস্তানে চলছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াও নানান সমস্যায় জড়িয়ে থাকে।
নির্বাচন নিয়ে দেশেগুলোর জনগণের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে রয়েছে। আবার রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে শক্তি বিস্তার করা তুরস্ক বিশ্ব রাজনীতে সবসময়ই আলোচনায় থাকে। সেটা হোক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অথবা আমেরিকার সাথে কোনো বিষয় নিয়ে টুকটাক দ্বন্দ, কিংবা মধ্যপ্রাচের জটিল কোন রাজনীতি।
তুরস্কে ২০০২ সালে ক্ষমতায় আসে একে পার্টি। এর বছর খানেক পরই একে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরদোয়ান হন প্রধানমন্ত্রী। যিনি বর্তমানে প্রসিডেন্ট পদে দেশটিতে আসীন আছেন।
আন্তর্জাতিক মহলে এরদোয়ানের রয়েছে বেশ প্রতিপত্তি। পরাশক্তিগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলা এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বেও ব্যাপক জনপ্রিয়।
তবে নিজ দেশে তিনি কতটা জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন, সেটাই বুঝা যাবে এবারের নির্বাচনে।
দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান পার করছে নানা প্রতিকূলতা। চরম অর্থনৈতিক ও জলবায়ু সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতাও।
গতবছর তেহরিকে ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খান পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারান। তিনি এর জন্য দায়ী করেন যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রকে।
ইমরান খানের হারার পরই মুসলিম লীগ নেতা শাহবাজ শরিফ সরকার গঠন করেন। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা আরো কঠিন হয়ে পড়ে রিজার্ভে টান পড়ার কারণে।
এছাড়া দেশব্যাপী বন্যার পর জনগণের দুরবস্থা খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠে। জ্বালানি ও নিত্য পণ্যের আমদানিতেও সমস্যায় রয়েছে দেশটি।
তবে আশার কথা হলো, কিছুদিন আগে জাতিসংঘের বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কে সাহায্যের জন্য রাজি করিয়ে নেন শাহবাজ শরিফের সরকার।
এর আগে ইমরান খান অল্প দিনেই মুসলিম বিশ্বে সুনাম কুড়িয়ে ছিলেন। জাতিসংঘে তার ভাষণে ইসলাম ও মুসলিম নিয়ে বক্তব্য ছিল বেশ সুন্দর ও সাবলীল।
ক্ষমতা হারনোর পর তিনি ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন। এসব আন্দোলনে নিজ দেশের জনসভা গুলোতে বড় আকারের জনসমাগম ঘটে।
এতে দেখা যায়, জনপ্রিয়তায় ইমরান খান অনেক এগিয়ে রয়েছেন। যদিও এর আগের বার তেহরিকে ইনসাফ পার্টি পার্লামেন্টে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ফলে এবারের নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে রয়েছে অনেক হিসেব নিকেশ। তবে ইমরান খান জয়ী হলে পাক সেনাবাহিনী ও বিশ্ব রাজনীতি তে বেশ প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিতি পেতে পারেন।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এবারের নির্বাচন যে বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য।
বর্তমানে পরাশক্তি হওয়ার লড়াইয়ে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের দ্বন্দ সবার জানা। এই প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও।
রাশিয়া ও চীনের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে। আবার চীন-রাশিয়াকে টেক্কা দিতে আমেরিকার স্বার্থও কম নয়।
ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বহিঃবিশ্বের আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে অন্য বারের চেয়ে এবার সেই আগ্রহ তুলনামূলক বেশি।
এছাড়াও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মুসলিম অধ্যষিত আফ্রিকার জনবহুল একটি দেশ নাইজেরিয়াতেও। দেশটিতে কিছুদিন পরপর বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ফলে নির্বাচিত দলকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
মুসলিম দেশগুলো ছাড়াও আর্জেন্টিনার মত আরো অনেক দেশেই হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নির্বাচন। ফলে সারা বছর জুড়েই হয়তো পাওয়া যাবে নির্বাচন ও ক্ষমতা পরিবর্তনের আমেজ।
দেশগুলোতে নির্বাচিত সরকার শুধু দেশের নীতি নির্ধারনীই নয়, সাথে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই এসব দেশে নির্বাচনে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কতটা ঘটে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় বাকি বিশ্ব।