বাংলাদেশে বসেই ঘুরতে পারবেন মসজিদে নববী! যেতে হবে না সৌদি আরব! আর সেই সুযোগ করে দিলো খোদ সৌদি আরব!
ইসলামী ইতিহাসের সর্ব প্রথম মসজিদ “ মসজিদে নববী”। এই মসজিদে নামাজ পড়েছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সকল সাহাবীরাই।
জীবনে অন্তত একবার এই অতি মর্যাদাপূর্ণ মসজিদকে স্বচক্ষে দেখতে চান পৃথিবীর নানা প্রান্তের মুসলিমেরা। এবারে তাদের সেই আশা পুর্ণ হবে একেবারেই বিনা খরচেই।
সম্প্রতি সৌদি রাজ পরিবারের নেওয়া বিশেষ এক উদ্যোগের ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকেউ ভার্চুয়ালি ঘুরে আসতে পারবেন মসজিদে নববী।
মুলত তাদের ডেভেলপ করা একটি ওয়েবসাইটে এই ভার্চুয়াল ভ্রমনের সুযোগ মিলছে। সেখানে মসজিদ প্রাঙ্গনের গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা গুলোর থ্রিডি ভিউ দেখা যাচ্ছে।
লাইভ এই ট্যুরের সময় যেকেউ চাইলেই এইসব স্থাপনার ব্যপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন, যা লেখা রয়েছে আরবি, ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষায়।
এছাড়া ভার্চুয়াল ভ্রমনের এই সময়টায় ব্যাকগ্রাউন্ডে লাইভ শোনা যাবে বিখ্যাত নববী মসজিদের ইমামদের আজান এবং কোরান তেলওয়াত।
সৌদি আরবের মদিনা নগরীতে অবস্থিত মসজিদে নববিতে জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আর এখানেই অবস্থিত তার পবিত্র রওজা মোবারক।
সম্প্রতি আলোচনার জন্ম দেওয়া মসজিদে নববীর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে নবিজী সা. এর পবিত্র রাওজা শরীফের দৃশ্য।
মুলত মসজিদটিতে প্রবেশ করার বেশ কয়েকটি গেইট রয়েছে এবং প্রত্যেকটি গেইটের স্থাপত্যকলা এবং আশেপাশের দৃশ্য ভিন্ন। তাই দর্শনার্থীরা ভ্রমনে গেলে প্রত্যেক গেইটই ঘুরে দেখেন।
ভার্চুয়াল ভ্রমনে ও রয়েছে একদম হুবহু সেই সুযোগ। ভিজিটরেরা চাইলে হোম পেইজ থেকে ভিন্ন ভিন্ন গেইট সিলেক্ট করে সেই পথে প্রবেশ করতে পারবেন মসজিদে।
ভার্চুয়াল এই প্রযুক্তিতে আপাতত আল সালাম , জিবরাইল , আবু বকর আল সিদ্দিক , আল রহমাহ এবং উমর ইবনে আল খাত্তাব গেট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করে যেকেউ মসজিদে নববীর লাইব্রেরী, গ্যালারি এবং প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে লাইব্রেরিতে থাকা বই গুলো পড়তে হলে যেতে আলাদা ওয়েবসাইটে। এছাড়া এই ভ্রমনে দেখা যাবে নবীজীর তৈরি মসজিদের উপরের বিখ্যাত সবুজ মিনারটিকেও।
ভার্চ্যুয়ালি মসজিদে নববি দেখার সময় ভিজিটরেরা চাইলেই যেকোন ছবি বড় কিংবা ছোট করে দেখতে পারবেন। এছাড়া ইমেজ গুলো থ্রিডি হওয়ার কারণে যেকোন পাশ দিয়েই ঘুরিয়ে দেখা যায়।
যদি মসজিদটির কোন অংশের ছবি পছন্দ হয় তাহলে ভার্চুয়াল ভ্রমনকারীরা সেই ছবি শেয়ার করতে পারবেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
ইসলামের একদম প্রথম যুগে কাফিরদের অত্যাচারের মুখে নবিজী হিজরত করেছিলেন মক্কা থেকে মদিনা শহরে। সেখানে তিনি সর্বপ্রথম নির্মান করেন এই নববী মসজিদ।
এরপর এই মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বব্যাপী। গঠিত হয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র। তবে এখন পর্যন্ত মসজিদে নববীতে কখনোই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি ভিন ধর্মের অনুসারীদের।
এছাড়া পরবর্তীতে ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা ভেঙ্গে যাওয়ায় মক্কা কিংবা মদিনায় ভ্রমন নানা প্রান্তের মুসলিমদের জন্যে অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এছাড়া নানা ধর্মীয় কারনে গুগল ম্যাপের মত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সৌদি সরকার কখনো সুযোগ দেয়নি মক্কা কিংবা মদিনার ছবি সংবলিত থ্রিডী ম্যাপ তৈরি করার।
তাই এবারে সৌদি সরকার অনেকটা নিজ উদ্যোগেই গড়ে তুলেছে এই থ্রিডি ম্যাপ। তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজে।
সব মিলিয়ে প্রত্যাশা করাই যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তৈরি করা হবে পবিত্র মক্কা শরীফেরও এমন থ্রিডী ইমেজ যার সাহায্যে মুসলিমদের জীবনের স্বপ্ন কিছুটা হলেও বাস্তবে ধরা দেবে!