ধর্ম


মসজিদে ছবি-ভিডিও নিষিদ্ধ করলো সৌদি সরকার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৭ মার্চ ২০২৩, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

মসজিদে ছবি-ভিডিও নিষিদ্ধ করলো সৌদি সরকার

আল্লাহর ঘর কাবা ও মসজিদে নববীতে, ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা নিষিদ্ধ করলো সৌদি আরব। 
এখন থেকে মক্কার বাইতুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে, আর ছবি বা ভিডিও করতে পারবেন না, হজ্ব ও ওমরাহ পালন করতে আসা হাজীরা। 

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে, কাবা শরীফ ও মসজিদে নববী সহ, সৌদি আরবের অন্যসব মসজিদের- ছবি তোলা, লাইভ ও ভিডিও করার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, ১০ টি নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি সরকার। 

গত ৩ মার্চ, সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, “আবদুল্লাহ আল-আনজি” দেশটির বিভিন্ন মসজিদে, ইফতার ও ইতিকাফ পালন সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে, এ নির্দেশনার কথা জানান। 

মুখপাত্র জানান, নামাজের সময় ইমাম ও মুসল্লিদের ছবি তুলতে পারবেন না হজ্ব ও উমরাহ পালনকারীরা। সেইসাথে মসজিদে আনতে পারবেন না ক্যামেরাও। 

ক্যামেরার ব্যবহার এবং নামাজের ভিডিও ধারণ করে, কোনো ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, পুরোপুরি নিষিদ্ধের আওতায় থাকবে ।

তবে এ বছর রমজানে মক্কা ও মদিনার মসজিদগুলোতে, সেহরি ও ইফতারের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আগে মসজিদে বসে সেহরি ও ইফতার করতে পারতেন না হাজীরা।

তবে এ বছর মসজিদগুলোতে, সেহরি ও ইফতার করার আগে মানতে হবে, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কঠিন নির্দেশনা।
এ ছাড়াও ইফতার ও সেহরি আয়োজনে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা পয়সা, অনুদান আকারে সংগ্রহ করতে পারবেন না। 

মসজিদে ইফতার আয়োজনে ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে, প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এ অনুমতির পাশাপাশি, প্রতিদিন এশার পর তারাবির নামাজ এবং শেষ ১০ দিন, তাহাজ্জুদের নামাজ ও ইতিকাফেরও আয়োজনের, অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। 

তবে ইতিকাফকারীদের মসজিদে অবস্থান করার আগে, সে বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানাতে হবে। 

পবিত্র রমজানে সৌদি আরবে উমরাহ পালন করতে, লাখ লাখ মানুষ সমেবেত হন। প্রধান দুই মসজিদ বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববিতে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকেন। 

হজ্বের মৌসুম ছাড়াও প্রতি বছর, বিশেষ করে রমজানে প্রচুর মানুষ এখানে আসেন। কারণ রমজানের সময় উমরাহর ফজিলত অনেক বেশি। 

সৌদি কর্তৃপক্ষ এবারও, ৩০ লাখ মুসল্লি আগমনের সম্ভাবনার কথা বলছেন। 
তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখে, সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন। 
সেই সঙ্গে মুসল্লিদের সেবায় ১২ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সৌদি সরকারের এরূপ নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। 
দুই বছর পর মসজিদগুলোতে সেহরি ও ইফতারের কার্যক্রম, আবার চালু হওয়ায় খুশি উমরাহ পালনকারীরা। 

তবে ছবি ও ভিডিও ধারণের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে, মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। 

অনেকেই বলছেন, যাদের আল্লাহর ঘর কাছ থেকে দেখার সামর্থ্য নেই। তাই অন্তত ভিডিও চিত্র বা লাইভের মাধ্যমে, পবিত্র জায়গাটি দেখবার সুযোগ পেতেন। এখন হয়তো সেটি আর দেখা যাবে না। 

তবে ইতোমধ্যেই, সৌদি সরকার মসজিদে নববীর “ভার্চুয়াল বাস্তবতা” র মাধ্যমে, মসজিদে নববিকে দেখার জন্য বিশেষ এক ওয়েবসাইট
শুরু করা
করেছে। 

vr.qurancomplex.gov.sa নামের এই ওয়েবসাইট থেকে- মসজিদে নববীর গেইট, মহানবীর রওজা মোবারাকের বাইরের অংশ  ও মসজিদ চত্বর দেখা যাবে। 

উল্লেখ্য, ইসলামে বিত্তশালীদের জন্য হজ্বকে করা হয়েছে ফরজ ও উমরাহকে করা হয়েছে সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

 হজ ও উমরাহ দারিদ্র্যতা দূর করে ও গোনাহ মাফ করার বিশেষ মাধ্যম। 
আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ, মক্কা ও মদিনায় হজ্ব ও উমরাহ পালন করতে যান। 



জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত

রমজান মাস কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার মাস। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করা, যা কোরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—

মাহে রমজান: শুধু রোজা নয়, এটি চরিত্র গঠনের মাস- আমরা কি চরিত্রও শুদ্ধ করছি?

রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বর্জনের মাস নয়। এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বোধ বৃদ্ধির মাস। ইসলামের শিক্ষায় রোজা কেবল খাদ্য-বর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের চরিত্র গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ইতিহাসে দ্বিতীয় রমজান: শাকহাবের প্রান্তরে মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ

৯১ হিজরির ১ রমজানে আন্দালুস বিজয়ের যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ছয় শতক পর ৭০২ হিজরির ২ রমজানে সিরিয়ার মাটিতে রচিত হয় আরেক মহাকাব্যিক অধ্যায়। এদিন ‘শাকহাবের যুদ্ধ’ (১৩০৩ খ্রি.) কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নে এক চূড়ান্ত লড়াই।

ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়াগুলো পড়বেন

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)