ধর্ম


নবিজীর রওজা শরিফের উপর জানালা দেয়ার কারণ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ মার্চ ২০২৩, ০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার

নবিজীর রওজা শরিফের উপর জানালা দেয়ার কারণ

হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর রওজার উপরের অংশে সবুজ গম্বুজের উপর একটি জানালা রয়েছে। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর অনেকেই জানেন না এই জানালার কাজ কি। কেন এটি নবির রওজার উপরই স্থাপন করা হয়েছে এ নিয়েও রয়েছে নানান মনগড়া কাহিনি।তবে জানালাটি স্থাপনের মূল কারণ সম্পর্কে হাদিসে বলা আছে, এটি নির্মাণ করা হয়েছে নবিজীর স্ত্রী আয়েশার আদেশে।

নবির মৃত্যুর পর মদিনাবাসী দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। অসহনীয় গরম ও অনাবৃষ্টিতে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েন তাঁরা।পরিস্থিতি বিবেচনায় উপায়ন্তর না দেখে মদিনাবাসি  আয়েশা (রাঃ)'র কাছে যান। তাঁরা বিবি আয়েশাকে নিজেদের দূর্দিনের কথা বর্ণনা করে তাঁর  কাছে এ থেকে মুক্তির উপায় জানতে চান। 

ঘটনাটি শুনে মা আয়েশা  নবিজীর রওজা শরিফের উপর যে খেজুরের ডাল রয়েছে তা সরিয়ে দিতে বলেন।

মদিনাবাসিও মা আয়শা (রাঃ) কথা মোতাবেক তা করে অপেক্ষা করতে লাগলেন। এর কিছু সময় পরেই মদিনার আকাশ কালো মেঘে ভরে গিয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু হল। যার ফলে মদিনা সবুজ ঘাসে ভরে যায় এবং প্রচুর শষ্য চাষ হয়।

কিন্তু ধীরে ধীরে বৃষ্টির মাত্রা এতো বেড়ে গেলো যে,  মাদিনাবাসির হাঁটাচলায় সমস্যা সৃষ্টি হলো। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি ফসল-ফলাদিরও ক্ষতি করবে ভেবে মদিনাবাসী পুনরায় মা আয়াশা (রাঃ) কাছে গেলো।

তখন বিবি আয়শা তাদের বললের, তাঁরা যেন পুনরায় নবীজীর রওজা মোবারকের উপরে খেঁজুর গাছটির ডালটি রেখে দেয়।

আশ্চর্য ব্যাপার হলো আয়েশা (রাঃ) কথা মোতাবেক কাজ করার পর পরই বৃষ্টি থেমে যায়। 

এই হাদিস মোতাবেক এখনও মদিনায় অনাবৃষ্টি দেখা দিলে মদিনাবাসী রওজা শরিফের উপরের জানালাটি খুলে দেন। তখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।


তবে নবিজীর রওজা শরিফের ওপরের জানালাটি সম্পর্কে আরও একটি হাদিসে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায়। সেখানে বলা হয়, মদিনাবাসী দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে মা আয়শা (রাঃ) কাছে এ থেকে মুক্তির উপায় জানতে চায়।

তখন বিবি আয়েশা তাদেরকে নবির কবরের কাছে গিয়ে আকাশের দিকে মুখ করে একটি জানালা খুলে দিতে বলেন, যাতে করে নবি ও আকাশের মাঝে কোন ছাদ না থাকে।

আয়েশার আদেশ মতো মদিনাবাসী তাই করল। রওজা শরিফে জানালাটি স্থাপনের পর মদিনায় এমন বৃষ্টি হলো যে, এর গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে লাগলো। যে কারণে সেই বছরটিকে ইয়ার অফ প্লেন্টি বলা হয়ে থাকে।



প্রসঙ্গত, মুসলিম উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে ইন্তেকাল করেন। 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রাসুলে কারীম (সাঃ) তাঁর জীবদ্দশায় যে ঘরটিতে স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) কে নিয়ে বসবাস করতেন, সে ঘরটিতেই মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে নবির নির্মিত মসজিদে নববীকে সম্প্রসারণ করে, তাঁর কবরকে এর সম্প্রসারিত এলাকার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মসজিদে নবাবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান নবিজীর রওজা শরিফ।

নবিজীর রওজা শরীফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূল সাঃ এর মিম্বর পর্যন্ত, স্বল্প পরিসরের স্থান টুকুকে,  রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেস্তের বাগিচা বলা হয়।

এই অংশটুকুতে কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে। সে স্তম্ভগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বা খুঁটি বলা হয়ে থাকে। দুনিয়াতে এটিই একমাত্র জান্নাতের অংশ।

মদিনায় অবস্থানকালে কবর জিয়ারতের পাশাপাশি হাজীদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে মসজিদে নববীতে হাজিরা দেয়া এবং সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।

বর্তমানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবরগাহের কক্ষটি চারপাশে বেষ্টনীতে আবদ্ধ থাকায় রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার দুই সঙ্গীর কবর বাইরে থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। 

শুধু কামরাটির প্রবেশ পথের গ্রিলে তিনটি ছিদ্র পথ রয়েছে, যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার দুই সঙ্গীর কবর সরাসরি দেখা যায়। 

বাম থেকে প্রথম বড় ছিদ্রপথ দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা.) কবর, মাঝের ছিদ্রপথে হযরত আবু বকরের (রা.) কবর এবং সর্বডানের ছিদ্রপথে হযরত উমরের (রা.) কবর দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী নবীজির রওজা মোবারক নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে। বিভিন্ন দেশে নবীজি ও খলিফাদের ভুয়া রওজার ছবি দেখিয়ে অবৈধ অর্থ রোজগারের অপচেষ্টাও চালাচ্ছে অনেকে।





জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।