প্রতি বছর সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান হজ করতে সৌদি আরবে আসেন। হজের এই মৌসুমে সৌদি আরবের আর্থিক লেনদেনের বড় একটা অংশ আসে হাজীদের থেকে।
অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে, সৌদি আরবে হজ কিংবা আল-উমরাহ-করতে যেসব মুসলমান যান, তাঁদের কাছ থেকে দেশটি আসলে কত অর্থ রোজগার করে? কিংবা সৌদি আরবের অর্থনীতির কত ভাগ অবদান রাখে হজ থেকে আয়কৃত অর্থ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, তার থেকেও বেশি আয় হয় হজ থেকে। তবে প্রকৃতপক্ষে কত আয় হয় তার প্রকৃত হিসাব জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। অনুমান এবং পরিসংখ্যান এর ওপর নির্ভর করে হজের মোট আয় ধারণা করা হয়।
অনুমান করা হয়, প্রতি বছর হজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে আনুমানিক ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে সৌদি সরকার। মূলত ট্যাক্স , পারমিট ফি এবং ট্যারিফ খাত থেকে আসে এই অর্থের মোটা অংশ। পাশপাশি হোটেল, রিসর্ট, পরিবহন এবং খাবারের মতো পরিষেবা থেকেও বড় অংশ আয় করে থাকে দেশটি।
হজের মৌসুমে সৌদি আরবে অবস্থান কালীন বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে থাকেন হাজিরা। ২০১৮ সালের একটি তথ্য অনুযায়ী হজ করতে আসা হাজিরা সৌদিতে অবস্থানকালে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ব্যয় করেন।
এছাড়া হজের সময় ছাড়াও সারা বছরের ওমরা হজের জন্যে দেশটিতে যাতায়াত করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। হজ এবং ওমরা হজ এই দুই আয় মিলে প্রতি বছর প্রায় ২০ বিলিয়নের ডলারের ও বেশি অর্থ যোগ হয় সৌদি আরবের অর্থনীতিতে।
যদিও হজের এই আয় প্রতি বছর আগত হাজীদের সংখ্যার উপর নির্ভর করে তারতম্য হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই পরিমাণ সাভাবিক থাকলেও ২০২০ সাল থেকে স্থবির হয়ে পরে হজের সাভাবিক কার্যক্রম।
কোভিড মহামারীর কারণে দেশটিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় সল্প সংখ্যক ব্যক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয় হজের কার্যক্রম।২০২০ সালে মাত্র ১০০০ জন হাজী নিয়ে হজ সম্পন্ন হয়।
করোনার প্রকোপ কিছুটা কোন এলে ৬০ হাজার হাজী নিয়ে সম্পন্ন হয় ২০২১ সালের হজ কার্যক্রম। তবে ২০২২ সাল থেকে আবার সাভাবিক নিয়মে শুরু করা হয় হজ পালনের মহাযজ্ঞ।
মহামারীর আগে ২০২২ সালের মধ্যে হজের মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সৌদি সরকার। কিন্তু সে পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন হাজী আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দেশটি।
পৃথিবীতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন মুসলিমের জন্যে পবিত্রতম জায়গা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা শহর। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকটি উপলদ্ধি করেছে দেশটির সরকার।
এর প্রেক্ষিতে বাদশা আব্দুল আজিজের ক্ষমতা গ্রহণের পর হজের স্থানকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই লক্ষ্যে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক মূল্যমান একটি প্রকল্প চালু করে দেশটির সরকার।
তেল সম্পদের দিকে নজর ঘুরিয়ে সম্প্রতি হজ মার্কেটকে লক্ষ্য করেই সৌদিকে নতুন ভাবে গড়ার স্বপ্ন দেখছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এমনটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রতি বছর গড়ে ২০ মিলিয়ন হাজী হজ করতে আসেন। প্রত্যেক হাজির হজের জন্যে ব্যয় করতে হয় তিন হাজার থেকে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত। হজের প্যাকেজ অনুসারে তারতম্য হয়ে থাকে হজের খরচ। হাজীদের থেকে আয়কৃত এসব অর্থ দিয়ে নিজেদের অর্থনীতিতে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে তেল সমৃদ্ধ দেশটি।