ধর্ম


রমজানে ২২ দেশে এক মিলিয়ন কুরআন বিতরণ করবে সৌদি আরব!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ মার্চ ২০২৩, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার

রমজানে ২২ দেশে এক মিলিয়ন কুরআন বিতরণ করবে সৌদি আরব!

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৩ মার্চ, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে।মুসলিম বিশ্বের তীর্থভূমি সৌদি আরবে রমজানের আমেজ, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভিন্ন।প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান এলেই, এক ধরনের উৎসবের আমেজ দেখা যায় মুসলিম দেশটিতে।

এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আসন্ন রমজান ঘিরে এরই মধ্যে বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায়, বিশ্বব্যাপী কুরআন বিতরণের প্রকল্পও হাতে নিয়েছে তারা।

পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের অন্তত ২২টি দেশে, পবিত্র কোরআন বিতরণ করবে দেশটি। সম্প্রতি এক ঘোষণায়, এই কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ, সালমান বিন আবদুল আজিজ।

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে, পবিত্র কোরআনে কারিম, বিশ্বের ৭৬টিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

সেই সঙ্গে কোরআনের কপির সাইজেও থাকবে ভিন্নতা। বিভিন্ন সাইজের মোট ১০ লাখ কপি মুদ্রণ করা হবে।

পবিত্র কোরআনের কপিগুলো মুদ্রণ করেছে, মদিনার “বাদশাহ ফাহাদ গ্লোরিয়াস কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স।”

অনুবাদ করা কোরআনের কপিগুলো, আসছে রমজানেই, বিশ্বের ২২টি দেশের ইসলামিক কেন্দ্রে দেয়া হবে।
 ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করছে দেশটির ইসলাম, দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা বিভাগ।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে, বিশ্বের অনেক মানুষ, পবিত্র কোরআনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে, মনে করছে সৌদি সরকার।

এছাড়া রমজানে কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসে কোরআন তেলাওয়াতে ফজিলত বেশি।
 ফজিলতের এই মাসে, কোরআন তেলাওয়াতের সুযোগ করে দেওয়াও উত্তম কাজ।

ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কা ও মদিনার দেশ সৌদি আরবে, রমজানের আমেজ থাকে ভিন্নরকম।
 হাসি-খুশি, উৎসবসমুখর ও অনেকটা আনন্দঘেরা পরিবেশে কাটে তাদের মাহে রমজান। 

মহিমান্বিত রমজান মাস পালনে, সৌদিতে মাস দুয়েক আগ থেকে চলে প্রস্তুতি। তবে করোনা মহামারির কারণে, দুই বছর মসজিদে ইফতার ও ইতিকাফ কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল সৌদি আরব।

এরপর গত বছরের আবারও রমজান মাসের কার্যক্রম শুরু হলেও, তা ছিলো সীমিত আকারে। তবে সেসব বাধা কাটিয়ে এবার পুরোপুরিভাবে, রমজান মাসের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র রমজান মাসে, সৌদি আরবের দুই প্রধান মসজিদ বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববিতে বিশ্বের লাখ লাখ মুসল্লি জড়ো হন। এবারও সৌদি কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ মুসল্লি আগমনের সম্ভাবনার কথা বলছেন।

তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখে, এরইমধ্যে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের সেবায়, ১২ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছে সৌদির ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সৌদিতে রমজান উপলক্ষে মুসল্লিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। বিভিন্ন কোম্পানির জিনিসে থাকে বিশেষ ছাড়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও থাকে হাতের নাগালে। সরকারিভাবেই এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া প্রত্যেক এলাকায় একাধিক স্থানে উম্মুক্ত ইফতারের আয়োজনও করা হয়। যেসব স্থানে পথিক, প্রবাসী ও শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে থাকে।

কারখানাগুলোতেও শ্রমিকদের জন্য উন্নতমানের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে রমজান উপলক্ষ্যে সরকারিভাবেই কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়া হয়। 

এভাবে বিভিন্ন পূণ্য ও ভালো কাজের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে ,পবিত্র রমজান পালন করেন সৌদি আরবের অধিবাসীরা।






জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত

রমজান মাস কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার মাস। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করা, যা কোরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—

মাহে রমজান: শুধু রোজা নয়, এটি চরিত্র গঠনের মাস- আমরা কি চরিত্রও শুদ্ধ করছি?

রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বর্জনের মাস নয়। এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বোধ বৃদ্ধির মাস। ইসলামের শিক্ষায় রোজা কেবল খাদ্য-বর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের চরিত্র গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ইতিহাসে দ্বিতীয় রমজান: শাকহাবের প্রান্তরে মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ

৯১ হিজরির ১ রমজানে আন্দালুস বিজয়ের যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ছয় শতক পর ৭০২ হিজরির ২ রমজানে সিরিয়ার মাটিতে রচিত হয় আরেক মহাকাব্যিক অধ্যায়। এদিন ‘শাকহাবের যুদ্ধ’ (১৩০৩ খ্রি.) কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নে এক চূড়ান্ত লড়াই।

ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়াগুলো পড়বেন

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)