ধর্ম


কীভাবে দেখা হয় রমজানের চাঁদ? কীভাবে নির্ধারিত হয় রোজা বা ঈদের দিনক্ষণ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার

কীভাবে দেখা হয় রমজানের চাঁদ? কীভাবে নির্ধারিত হয় রোজা বা ঈদের দিনক্ষণ
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর!' 

ছোটোবেলায় টিভির পর্দায় এই ছোট্ট কথাটি শুনলেই, আনন্দে দু'পায়ে লাফিয়ে উঠতেন সকলে।  জর্দা-সেমাইয়ের মিষ্টি গন্ধে মেতে উঠতো পাড়া!তবে দেশের আকাশে ঈদের চাঁদ সত্যিই উঠেছে কি-না, তা নির্ণয় করা কিন্তু কোনো মামুলি ব্যাপার নয়!  বরং এ নিয়ে প্রতি বছরই বিরাট এক আয়োজন হয় দেশজুড়ে। 

এদেশে আকাশের চাঁদ দেখার মূল দায়িত্বে থাকে, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।রোজা হোক আর ঈদই হোক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন এ কমিটিই, প্রতিবার নির্ধারণ করে, কবে শুরু হবে রোজা বা কবে হচ্ছে ঈদ।

এ কমিটির কাজে মূল সহযোগী বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্টেশন। সে স্টেশনগুলো থেকেই চাঁদ দেখার লক্ষ্যে, নির্দিষ্ট দিনে আকাশে নজর রাখা হয়।

বৈজ্ঞানিক কৌশল কাজে লাগিয়ে, আবহাওয়া অফিসের একটি বিভাগ আগেই নির্ণয় করে, চাঁদ উঠলে সেটি আকাশের কোন কোণে কত ডিগ্রিতে উঠবে। আর কতক্ষণই বা সে চাঁদকে আকাশে দেখা যাবে।

এ হিসাব-নিকাশের ফল অনুযায়ীই, বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া স্টেশনগুলো চাঁদের সন্ধান করে।
 খালি চোখে যেমন চাঁদকে খোঁজা হয়, তেমনি নেয়া হয় টেলিস্কোপের মতো নানা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যও।

গবেষণা বলছে, আকাশে নতুন চাঁদ ওঠার পর সেটি দৃশ্যমান হতে, বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগতে পারে। 
এমনকি মানুষের চোখে ধরা দিতে একটি নতুন চাঁদ নাকি, ৩০ ঘণ্টা পর্যন্তও সময় নিতে পারে! 

আর দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, তবে খালি চোখে আকাশের চাঁদ দেখাটা তো, এক অবাস্তব ঘটনাই বটে! 
আর এমন সময়েই সবাই নিয়ে থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য।

এশিয়ার অনেক দেশের আবহাওয়াবিদই ব্যবহার করেন, অপটিক্যাল থিওডোলাইট নামের অত্যাধুনিক এক টেলিস্কোপ। 
সত্যিই যদি আকাশে চাঁদ উঠে থাকে, তবে খালি চোখে দেখতে না পেলেও, থিওডোলাইটের মাধ্যমে তা অবশ্যই দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের এসব স্টেশন থেকে যদি চাঁদ দেখা যায়, তবে তা জানানো হয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে।
 কমিটি এরপর যাচাই-বাছাই শেষে, রোজা শুরু বা ঈদের দিনের ঘোষণা দিয়ে থাকে।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষও, এ কমিটিকে চাঁদ দেখার খবর জানাতে পারেন।

এ কমিটির অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলায়, নানা সাব-কমিটি থাকে। কোনো মানুষ খালি চোখে চাঁদ দেখতে পেলেই, তারা স্থানীয় কমিটি বা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির প্রদত্ত নম্বরে, তা তখুনি জানাতে পারেন।

কমিটি এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহায়তায় যাচাই করে দেখে, চাঁদ দেখার খবরটি আদৌ সত্যি কি-না। 
নির্ভরযোগ্য ও প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী কেউ চাঁদ দেখে থাকলে, তবেই সে তথ্য গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে থাকে।

তবে শুধু এক ব্যক্তির কথাতে নয়, অনেক সময় অনেকের চোখে চাঁদের দেখা মিলেছে কি-না, সে ব্যাপারেও জানতে চায় কমিটি।
 চাঁদ দেখার প্রমাণস্বরূপ স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্রও অনেকে সরবরাহ করে থাকে।

তবে যত প্রযুক্তিই থাক না কেন, রোজা বা ঈদের দিন জানতে, বাংলাদেশের অনেক মানুষই এখনো সৌদি আরবের ওপরেই ভরসা করে থাকেন। 

আরব আমিরাতের দেশগুলোতে যেদিন রোজা শুরু হবে, তার পরদিন থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের রোজা। 
কমিটি সিদ্ধান্ত জানাবার আগে, এমন ভাবেই রোজা বা ঈদের দিনক্ষণ তারা ঠিক করে ফেলেন।

গতকাল তো সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। সেই হিসেবে সে দেশে রোজা শুরু আগামী ২৩ মার্চ থেকে।

তা প্রিয় দর্শক, আপনারাও কি সৌদির সাথে মিলিয়ে, রোজা শুরুর দিনক্ষণ ,নিজেরাই ঠিক করেছেন, নাকি অপেক্ষা করছেন ,আজ সন্ধ্যায় বসতে যাওয়া, কমিটির বৈঠকের জন্য?


জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।