শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর!'
ছোটোবেলায় টিভির পর্দায় এই ছোট্ট কথাটি শুনলেই, আনন্দে দু'পায়ে লাফিয়ে উঠতেন সকলে। জর্দা-সেমাইয়ের মিষ্টি গন্ধে মেতে উঠতো পাড়া!তবে দেশের আকাশে ঈদের চাঁদ সত্যিই উঠেছে কি-না, তা নির্ণয় করা কিন্তু কোনো মামুলি ব্যাপার নয়! বরং এ নিয়ে প্রতি বছরই বিরাট এক আয়োজন হয় দেশজুড়ে।
এদেশে আকাশের চাঁদ দেখার মূল দায়িত্বে থাকে, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।রোজা হোক আর ঈদই হোক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন এ কমিটিই, প্রতিবার নির্ধারণ করে, কবে শুরু হবে রোজা বা কবে হচ্ছে ঈদ।
এ কমিটির কাজে মূল সহযোগী বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্টেশন। সে স্টেশনগুলো থেকেই চাঁদ দেখার লক্ষ্যে, নির্দিষ্ট দিনে আকাশে নজর রাখা হয়।
বৈজ্ঞানিক কৌশল কাজে লাগিয়ে, আবহাওয়া অফিসের একটি বিভাগ আগেই নির্ণয় করে, চাঁদ উঠলে সেটি আকাশের কোন কোণে কত ডিগ্রিতে উঠবে। আর কতক্ষণই বা সে চাঁদকে আকাশে দেখা যাবে।
এ হিসাব-নিকাশের ফল অনুযায়ীই, বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া স্টেশনগুলো চাঁদের সন্ধান করে।
খালি চোখে যেমন চাঁদকে খোঁজা হয়, তেমনি নেয়া হয় টেলিস্কোপের মতো নানা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যও।
গবেষণা বলছে, আকাশে নতুন চাঁদ ওঠার পর সেটি দৃশ্যমান হতে, বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগতে পারে।
এমনকি মানুষের চোখে ধরা দিতে একটি নতুন চাঁদ নাকি, ৩০ ঘণ্টা পর্যন্তও সময় নিতে পারে!
আর দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, তবে খালি চোখে আকাশের চাঁদ দেখাটা তো, এক অবাস্তব ঘটনাই বটে!
আর এমন সময়েই সবাই নিয়ে থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য।
এশিয়ার অনেক দেশের আবহাওয়াবিদই ব্যবহার করেন, অপটিক্যাল থিওডোলাইট নামের অত্যাধুনিক এক টেলিস্কোপ।
সত্যিই যদি আকাশে চাঁদ উঠে থাকে, তবে খালি চোখে দেখতে না পেলেও, থিওডোলাইটের মাধ্যমে তা অবশ্যই দেখা যায়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের এসব স্টেশন থেকে যদি চাঁদ দেখা যায়, তবে তা জানানো হয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে।
কমিটি এরপর যাচাই-বাছাই শেষে, রোজা শুরু বা ঈদের দিনের ঘোষণা দিয়ে থাকে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন স্থানের সাধারণ মানুষও, এ কমিটিকে চাঁদ দেখার খবর জানাতে পারেন।
এ কমিটির অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলায়, নানা সাব-কমিটি থাকে। কোনো মানুষ খালি চোখে চাঁদ দেখতে পেলেই, তারা স্থানীয় কমিটি বা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির প্রদত্ত নম্বরে, তা তখুনি জানাতে পারেন।
কমিটি এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহায়তায় যাচাই করে দেখে, চাঁদ দেখার খবরটি আদৌ সত্যি কি-না।
নির্ভরযোগ্য ও প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী কেউ চাঁদ দেখে থাকলে, তবেই সে তথ্য গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে থাকে।
তবে শুধু এক ব্যক্তির কথাতে নয়, অনেক সময় অনেকের চোখে চাঁদের দেখা মিলেছে কি-না, সে ব্যাপারেও জানতে চায় কমিটি।
চাঁদ দেখার প্রমাণস্বরূপ স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্রও অনেকে সরবরাহ করে থাকে।
তবে যত প্রযুক্তিই থাক না কেন, রোজা বা ঈদের দিন জানতে, বাংলাদেশের অনেক মানুষই এখনো সৌদি আরবের ওপরেই ভরসা করে থাকেন।
আরব আমিরাতের দেশগুলোতে যেদিন রোজা শুরু হবে, তার পরদিন থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের রোজা।
কমিটি সিদ্ধান্ত জানাবার আগে, এমন ভাবেই রোজা বা ঈদের দিনক্ষণ তারা ঠিক করে ফেলেন।
গতকাল তো সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। সেই হিসেবে সে দেশে রোজা শুরু আগামী ২৩ মার্চ থেকে।
তা প্রিয় দর্শক, আপনারাও কি সৌদির সাথে মিলিয়ে, রোজা শুরুর দিনক্ষণ ,নিজেরাই ঠিক করেছেন, নাকি অপেক্ষা করছেন ,আজ সন্ধ্যায় বসতে যাওয়া, কমিটির বৈঠকের জন্য?