ইউরোপীয় ক্লাবগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় আয়োজন নিয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
চেলসির হোম গ্রাউন্ড স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ স্টেডিয়ামে সবার জন্য উন্মুক্ত ইফতারির আয়োজন করেছে ক্লাবটি।
আগামী ২৬ শে মার্চ চেলসির, স্ট্যামফোর্ড স্টেডিয়ামের খোলা মাঠে যে কেউ ইফতারি করার সুযোগ পাবে।
আশেপাশে হিন্দু-মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান, খেলোয়াড়, কিংবা দর্শক যে কেউ এই বিশাল ইফতার পার্টিতে যোগদান করতে পারবে।
টেন্ট প্রজেক্ট নামে একটি মুসলিম কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে এমন দারুন আয়োজনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ইংলিশ এই ক্লাবটি।
শুধু চেলসি নয়, টেন্ট প্রজেক্ট নামে এই মুসলিম কমিউনিটি ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের অনেক শহরে উন্মুক্ত ইফতার আয়োজন করার ব্যবস্থা করে।
সবধরনের মানুষের মাঝে ইসলাম ধর্মের শান্তির বার্তা পৌছে দেওয়ার জন্যই এমন ক্রিয়েটিভ আয়োজন।
গত ১০ বছর ধরেই ইসলাম ধর্মের দাওয়াতের কাজ করে আসছে এই সংস্থাটি। দশ বছর পুর্তি উপলক্ষেই
লন্ডনের ১০ টি শহরের উন্মুক্ত ইফতারির আয়োজন করছে তারা।
ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে এমন আয়োজনের কথা জানালে, অনেক আগ্রহ নিয়ে সায় দেয় ক্লাবটি।
এই ব্যাপারে টেন্ট প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ওমর সালহা বলেন, ‘রমজান উৎসব ও উন্মুক্ত ইফতারের মাধ্যমে গত এক দশকে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছে। রমজান টেন্ট প্রজেক্টের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আমরা যুক্তরাজ্যের ১০টি শহরে এ আয়োজন করতে যাচ্ছি। এতে সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের লোকদের আমন্ত্রণ।’
বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ১০ নাম্বারে থাকা চেলসি , ধর্ম-বর্ন নিবির্শেষে সম্প্রীতি ছড়ানোর জন্য, প্রশংসিত সারা বিশ্বজুড়ে।
শুধ চেলসি নয়,মুসলিমদের ধর্মীয় সম্প্রীতিতে এগিয়ে এসেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ।
এখন থেকে খেলাচলা কালীন সময় মাঠেই ইফতার করতে পারবে মুসলিম খেলোয়াড়েরা।
ইংলশ প্রীমিয়ার লিগে মুসলিম প্লেয়ারদের অভাব নেই । চেলসি, লিভারপুলের মতো জনপ্রিয় ক্লাব গুলোতে মুসলিম খেলোয়াড়দের আধিপত্য।
লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ । মিশরে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড় ইপিএলের সর্বোচ্চ গোলস্কোরারদের একজন। গত কয়েকসিজন ধরে সর্বোচ্চ গোল স্কোরারের লিস্টে তার আধিপত্য।
ম্যান সিটিতে মাহরেজ । আলজেরিয়ান এই তারকা, দুর্দান্ত খেলা উপহার দেয় ডি-ব্রুইনা-হল্যাণ্ডের সাথে, একসাথে হয়ে।
দুর্দান্ত এই খেলোয়াড়েরা পিছিয়ে নেই ধর্মীয় অনুশাসনেও। ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি, ইপিএলের ব্যস্ত শিডিঊলের মাঝেও রোজা রেখেই খেলে যায় এই তারকারা।
রমজান মাসে সন্ধ্যায় মাগরিবের সময় হলেই খেলা থামিয়ে ইফতার করতে দেখা যেত তাদেরকে।
পানীয় কিংবা এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে রোজা ভেংগে আবার খেলায় নেমে যেত তারা
এতোদিন সালাহ-মাহরেজদের ইফতার করার জন্য অধিনায়কের মাধ্যমে রেফারির কাছে আগেই অনুমতি নেওয়া লাগতো।।
তবে এখন সেটা আর করতে হবেনা। পবিত্র রমজানের এই বছর থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের উদ্যোগে মাঠেই ইফতার করতে পারবে বিনা বাধায়।
ইফতারির সময় হলে মুসলিম খেলোয়াড় থাকলে তার জন্য ম্যাচে বিরতি দিয়ে ইফতারের সময় দেয়া হবে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার সকল রেফারিকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়ে গেছে। পাশাপাশি লীগ কাপের ম্যাচ গুলোতে এই নীতি বহাল থাকবে।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন FA ও PGMOLএর প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিশিয়ালস লিমিটেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পক্ষ থেকে,এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সকল ইংলিশ ক্লাবের জন্য।
জনপ্রিয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের এমন অভিনব উদ্যোগ, প্রশংসা পাচ্ছে বিশ্বের সকল মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকেই।
মুলত ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্যই এমন আয়োজন। ইংলিশরা এর আগে থেকেই ধর্মীয় ব্যাপারে কোন বিদ্বেষ না ছড়িয়ে, শান্তিপূর্ণ অবস্থানের নজির দেখিয়েছে অনেক সময়।