ধর্ম


বিভিন্ন ধর্মে রোজার বিধান যেমন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ মার্চ ২০২৩, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার

বিভিন্ন ধর্মে রোজার বিধান যেমন

শুরু হল মুসলমানদের পবিত্র মাস মাহে রমজান। তবে প্রতিটি ধর্মেই আছে এমন রোজা কিংবা উপবাসের বিধান।
 দিনের হিসেবে সংখ্যায় কম হলেও, ধর্মীয় দিক থেকে এসব উপবাসের গুরুত্ব এবং মর্যাদা অনেক বেশি।
 
প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের জীবনে রমজান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এ মাস পুণ্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। 
দীর্ঘ এক মাস রোজা, তারাবি, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে, বান্দা মহান রাব্বুল আলামিন এর নৈকট্য অর্জন করেন। 

বিরত থাকেন সব ধরনের গুনাহ থেকে, হাসিল করেন হৃদয় ও আত্মার পরিশুদ্ধি। তাই এই মাসকে বলা হয়, পবিত্র ও মহিমান্বিত মাস।

ইসলাম ধর্মে রোজা পালনের যেমন আছে বিধি বিধান, তেমনি অন্যান্য অনেক ধর্মে, এমন উপবাসের বিধান আছে। 
যেগুলোর পদ্ধতি ও পরিচিতি আমাদের অনেকেরই অজানা!

অন্যান্য ধর্মের রোজা রাখা বা উপবাস করায়, সবথেকে প্রসিদ্ধ হলো খ্রিষ্টান ধর্ম।  এই ধর্মানুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। খ্রিস্ট ধর্মেও রোজা পালনের বিধান আছে । 

তবে খ্রিষ্ট ধর্মের উপবাসে, খাদ্য পানীয় পরিহারের বদলে, সৃষ্টিকর্তার আদেশ ভালোভাবে পালন করতে এবং  দুর্দশাগ্রস্থকে সাহায্যের কথা বলা হয়। 

এছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মের মধ্যে আছে কিছু শাখা বিভক্তি। 
ক্যাথলিক চার্চ এবং ইস্টার্ন অর্থোডক্স শ্রেণীর খ্রিষ্টানরা, চল্লিশ দিনের আংশিক উপবাস পালন করে থাকেন। 

এই সময়ে তারা মাংস এবং দুধ পান করা থেকে বিরত থাকেন। 
এছাড়া বাইবেলে উল্লেখ আছে, সবার উচিত সপ্তম মাসের, নবম দিনের সন্ধ্যা থেকে দশম দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত, কোনোরূপ খাদ্য গ্রহণ না করা। 

এছাড়া অ্যাশ ওয়েনেসডে ও গুড ফ্রাইডে’তে রোজা রাখেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।

ইহুদিদের রোজা বছরে ছয়দিন। তাদের রোজা মানে সব ধরনের খাবার ও পানি গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। 

ইয়াম কিপ্পুর হচ্ছে ইহুদি বর্ষপঞ্জিকার, সবচে গুরুত্বপূর্ণ দিন। 
এদিন সব পূর্ণবয়স্ক নারী ও পুরুষ রোজা পালন করে থাকেন।

 এই পবিত্র দিনে তারা উপাসনার চেয়ে, রোজাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। যদি কেউ উপবাস পালন করে প্রার্থনাও না করে, তবুও সে পুণ্য লাভ করবে। 

তাদের আরকটি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রোজার দিন তিশা বাব।
বিশ্বাস অনুযায়ী, আনুমানিক ২৫০০ বছর আগে এই দিনে, “ব্যাবিলনিয়া জেরুজালেমের” প্রথম পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে দেয় এবং প্রায় ২০০০ বছর আগে রোমানরা, জেরুজালেমের দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে। 

তিশা বাব এ ইহুদিরা বিভিন্ন ট্রাজেডিতে পতিত হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে তারা এই দিনটিকে পালন করেন উপবাসের মাধ্যমে। 

অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্মের উপবাসের বিধান কিছুটা ভিন্ন। তাদের উপবাস শুরু হয় দুপুর থেকে। দুপুরের খাবারের পর সব ধরণের পানাহার নিষিদ্ধ তাদের ধর্মে। 

বৌদ্ধধর্মে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিনয়নীতি অনুসরণ করে, দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত, খাবারদাবার গ্রহণ করেন না। যদিও এটাকে পুরোপুরি উপবাস বলা হয় না। 

হিন্দু ধর্মেও উপবাস পালন করার বিধান আছে। হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বেদে বলা হয়েছে যে, চন্দ্রমাসের একাদশীর দিন, পুরোটাই উপবাস করতে হবে। শুধু পানি পান করা যাবে। সে হিসেবে মাসে দু’বার এই উপবাসের প্রথা আছে।

তবে হিন্দুদের বিভিন্ন শাখায় উপবাসকে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। যেমন- শ্রীবিদ্যায় উপবাস করতে নিষেধ করা হয়েছে। 

জৈনধর্ম হলো ভারতীয় উপমহাদেশের একটি প্রাচীন ধর্ম। এই জৈন ধর্মেও, ধর্মীয় অনুশাসনে উপবাসের কথা আছে। তাদের উপবাসের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। 

এর একটি হচ্ছে, চৌবিহার উপবাস; যাতে পরবর্তী দিনের সূর্যোদয় পর্যন্ত, কোনো প্রকার খাবার বা পানি গ্রহণ করা যায় না। 
আরেকটি উপবাস হচ্ছে, ত্রিবিহার উপবাস; যেখানে কোনো খাবার খাওয়া যায় না, শুধু ফুটানো পানি পান করা যায়।





জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?

ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।